• মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং ইস্টিটিউট এর আয়োজনে ঝালকাঠিতে এন্টারপ্রেনারশীপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ওপেনিং সিরোমনি ঝালকাঠিতে দুই স্ত্রীসহ ইয়াবা কারবারি আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নারিকেল গাছের চারা রোপণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ঝালকাঠির পাঁচ নেতা নথুল্লাবাদ ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট আল আমিন বরিশালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব, বৃত্তি পেল জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী কাজী সালমান ঝালকাঠিতে পিছিয়ে পড়া ছয় পরিবার পেল অটোরিকশা, স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন স্বপ্ন বিনয়কাঠী ইউপি নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুজ্জামান তালুকদার ঝালকাঠি মেঘনা ডিপোতে গ্যাস ও জ্বালানি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি ১৮ জুলাইয়ের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ঝালকাঠি সদর উপজেলা জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের মাঝেই গণপূর্তের টেন্ডার সিন্ডিকেটের পুনরুত্থান : করভবন প্রকল্প ঘিরে গণপূর্তে মেহেদীর পদায়ন, পেছনে আতিক-রিজওয়ান রায়হান চক্র।

Reporter Name / ১৯০ Time View
Update : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম চলছে ঠিকই, কিন্তু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোয় ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা আবারও মাথা তুলেছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

 

গণপূর্তে নতুন বোতলে পুরনো মদ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মোঃ মহাসীন মোল্ল্যা,

যাকে স্থানীয়ভাবে সবাই কায়েস চেয়ারম্যান হিসেবেই চেনে, তার ছেলে মেহেদী হাসান। ছিলেন চুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, তাকেই আজ গণপূর্তের টেন্ডারবাজিতে নতুনভাবে পুরনো খেলোয় নামানো হয়েছে। বাসার সামনে অর্থাৎ কাশিয়ানি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমপ্লেক্সের বিপরীতে রয়েছে কায়েস চেয়ারম্যান মার্কেট এবং এই মার্কেটের পেছনেই তার বাসা। এছাড়া ঢাকা খুলনা মহাসড়কের পাশে কাশিয়ানিতে কায়েজের ইটের ভাটাও রয়েছে। মেহেদীর স্ত্রী কাজী রুকাইয়া সুলতানা বিসিএস ট্যাক্স ক্যাডারের একজন সদস্য এবং সাবেক গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াসিউদ্দীন এর ছোট বোন। সে সুবাদে মাহেদী ছিলেন সচিবের বোন জামাই। ফলে গণপূর্তে একটা সময় এই মেহেদীর প্রভাব ছিল অকল্পনীয়।

 

এছাড়াও বিএসএমএমইউ এর সাবেক ভিসি এবং অসংখ্য দুর্ণীতির ঘটনার নায়ক অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার চাচা শেখ কবির ছিলো তার নিকটাত্মীয়। হাসিনার চাচা শেখ কবির (লোকমুখে প্রচলিত কবির চাচা) কে গণপূর্তের ঠিকাদারি কাজে অর্ন্তভুক্ত করা এবং তার ঠিকাদারী সকল কাজকর্ম দেখভাল করা ছিলো মেহেদীর অলিখিত দায়িত্ব। ফ্যাসিবাদের দোসর এই মেহেদী হাসানই সম্প্রতি পদায়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ- ৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে। তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এই বিভাগেই রয়েছে ৪০০ কোটি টাকার চট্টগ্রাম করভবন নির্মাণ প্রকল্পটি। অভিযোগ উঠেছে আতিকুল ইসলাম আতিকের নেতৃত্বাধীন টেন্ডার সিন্ডিকেটের পরামর্শেই মেহেদীর এই পদায়ন, যাতে লুটপাটের এই খেলার পুরোনো খেলোয়াড় নতুনভাবে যুক্ত হইয়েছে মাত্র। এই আতিকের পরামর্শে প্রধান প্রকৌশলী কর্তৃক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানকে মেহেদীর ফ্যাসিবাদী কানেকশন এর ব্যাপারে অন্ধকারে রেখে নাটকীয় এই পদায়নটির মঞ্চায়ন করানো হয়েছে।

 

দেখা যাক মেহেদীর পদোন্নতির টাইমলাইন : ২০১৩: ৩২তম বিসিএসে সঃপ্রঃ হিসেবে গণপূর্ত কাঠের কারখানা বিভাগে যোগদান, ডিসেম্বর, ২০১৩: গণপূর্ত কাঠের কারখানা বিভাগ থেকে শরীয়তপুর গণপূর্ত বিভাগে সঃপ্রঃ ও উঃবিঃপ্রঃ, ২৩-১১-২০১৪: শরীয়তপুর থেকে বরিশাল উপ-বিভাগ-১ উঃবিঃপ্রঃ, ০৬-১২-২০১৭: মিরপুর উপ-বিভাগ-৩ এ উঃবিঃপ্রঃ এবং প্রায় ৬ বছর অবস্থান, ২৪-০৮-২০১৬: শেরে বাংলা নগর উপ-বিভাগ-৪ উঃবিঃপ্রঃ, ১৯-১০-২০২৩: নির্বাহী প্রকৌশলী পদোন্নতি এবং প্রথম পদায়ন শেরে বাংলা নগর বিভাগ-২, ২১-০৮-২০২৪: হাসিনার পতনের পর প্রধান প্রকৌশলীর সহায়তায় গবেষণা ও উন্নয়ন ইউনিটে স্বেচ্ছায় পদায়ন, ০৪-০৯-২০২৫: সর্বশেষ চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-৪

 

ঢাকায় টানা ৯ বছর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়িত থাকার পর আবারও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চট্টগ্রাম বিভাগ-৪ এ পদায়ন এটি নিছক কাকতালীয় নয়, সাজানো চিত্রনাট্য বলার চেয়ে কম কিছু নয়।

আতিক-মেহেদী-মোস্তাফিজ ত্রিভুজঃ শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর এক্সেন আতিকুল ইসলাম আতিক।

 

দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। তার হাত ধরে এখন যুক্ত হয়েছেন মেহেদী। আর পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছেন দুই ভাই রিজওয়ান মোস্তাফিজ ও রায়হান মুস্তাফিজ।

 

রিজওয়ান মোস্তাফিজ : NDE বিক্রি করে এখন UCC Infrastructure Ltd-এর এমডি। ব্যাংক লুট ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার নাম জড়িত। অভিযোগ আছে, তার মাধ্যমেই মেহেদীর চট্টগ্রামে পদায়ন চূড়ান্ত হয়।

রায়হান মুস্তাফিজঃ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে সওজ অধিদপ্তরে ‘ডন’ হিসাবে পরিচিতি পান তিনি। মাত্র ছয় বছরে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এনডিই সড়কে ৮, ৬৫০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়।

 

অভিজ্ঞতা ছাড়াই মেগা প্রকল্প বাগানো, সাবেক চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরীর ভায়রা হওয়ার সুবাদে প্রভাব খাটানো, তারেক সিদ্দিকীসহ ক্ষমতাশালী মহলের মদদে টেন্ডার জালিয়াতি, দুদকের প্রাক-অনুসন্ধানে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ :

 

গণপূর্তেও এনডিইর ছিল একচেটিয়া প্রভাব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্লাস টাওয়ার, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ ভবন, সচিবালয় ভবন, মেডিকেল কলেজ, স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনসহ অসংখ্য মেগা প্রকল্প পেয়েছে তারা।

 

সিন্ডিকেটের ধারাবাহিকতা :

 

আজ আতিকের সিন্ডিকেটে মেহেদীর পদায়ন, পেছনে রিজওয়ান-রায়হান। আগে যেমন সওজে ছিল রায়হানের দাপট, এখন গণপূর্তে সেই একই খেলা নতুন আঙ্গিকে ফিরে আসছে। সংস্কার নাকি সিন্ডিকেটের প্রত্যাবর্তন? চাকরিজীবনের ১১ বছরের ৯ বছরই ঢাকায় কাটিয়ে এখন চট্টগ্রামে। এটি কি সংস্কারের ফল, নাকি ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটকে আবারও শক্তিশালী করার কৌশল? প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার বেছে বেছে সিন্ডিকেটের লোকদের আগলে রাখছেন এমন অভিযোগ এখন আরও জোরদার। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খানের সামনেই যখন এমন পদায়ন হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই-

সংস্কারের নামে কি আবারও ফ্যাসিবাদের পুরনো খেলা শুরু হলো?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/