• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকায় ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুদ মধু গ্রেপ্তার বাঁশখালীতে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে এমপি জহিরুলের মধ্যস্থতা ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম কমলো ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সূচি আবারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত ৮০ শতাংশ ছাড়, ডাক্তারের ফি না নেয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য নরওয়ের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংকের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন  জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও কর্মধারা আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর পিস ইন্টারন্যাশনাল ট্টাভেলস্ এজেন্সি শুভ উদ্বোধন শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে নবগ্রামে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাঁশখালীতে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে এমপি জহিরুলের মধ্যস্থতা

Reporter Name / ৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

 

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় সরল ইউনিয়নের সরকারি খাসজমি, লবণ মাঠ ও চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তাঁর মধ্যস্থতায় বিবদমান পক্ষগুলোকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক মীমাংসা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডসহ উপকূলীয় সমুদ্র চর এলাকায় সরকারি খাসজমি, লবণ মাঠ ও চিংড়ি ঘেরের দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুগের পর যুগ ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষ, গুলাগুলি, হতাহতের ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

 

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে এক ঘটনায় পশ্চিম সরল এলাকায় মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে তুমুল সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দোকানে বসে থাকা ব্যক্তি, পথচারী, শিশু ও বয়স্কসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

 

এর আগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকেলে সরল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সমুদ্র চর এলাকার সরকারি খাসজমিতে অবস্থিত লবণ মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন।

 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ওই সময়ে ডা. গিয়াস উদ্দীনের পক্ষের লোকজন লবণ মাঠে কাজ করতে গেলে একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মনসুর আলম ওরফে মচ্ছা মেম্বারের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

তৎকালীন সময়ে বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় মামলা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

 

দীর্ঘদিনের এই বিরোধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় বাঁশখালী জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে দুই পক্ষের ১০ সদস্যকে নিয়ে প্রথম মীমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মধ্যস্থতা করেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।

 

বৈঠকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উভয় পক্ষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।”

 

বৈঠকে ওসি রবিউল হক বলেন, “রাষ্ট্রে বসবাস করতে হলে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলতে হবে। সরলে অতীতে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর অনেকগুলোই আইনবিরোধী। সবাইকে মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের চেয়ে কেউ শক্তিশালী নয়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষকে নির্ধারিত প্রতিনিধিদের নাম জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক আহ্বান করে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

 

এদিকে দীর্ঘদিনের সংঘাত, প্রাণহানি ও আতঙ্কের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে সরল ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/