ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আলোচিত ডাকাতি মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আন্দুয়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তার জমাদ্দারের ছেলে মো. রাজিব জমাদ্দার,
মঠবাড়িয়া থানার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের কাউসার আহমেদের পুত্র মো. জুয়েল মৃধা (৪২),
মঠবাড়িয়া থানার মীরুখালী ইউনিয়নের মীরুখালী গ্রামের মোঃ বাবুল হাওলাদার এর পুত্র মো. হাসান হাওলাদার (৩০),
মঠবাড়িয়া থানার শাপলেজা গ্রামের মো: জামাল গাজীর পুত্র রাশিদুল(২৫)। তাদের মধ্যে রাজিবকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর বাগড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী পরিমল হালদারের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একদল সশস্ত্র ডাকাত বাড়িতে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, রুপার সামগ্রী, টর্চলাইট, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও বাটন ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতদের হামলায় পরিমল হালদার ও তাঁর ছেলে পলাশ হালদার গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় ১৯ জুলাই পরিমল হালদার বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-১৬)। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গত বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঝালকাঠি জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার রিকুইজিশন এবং ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি রাজিব জমাদ্দারের বিরুদ্ধে নিজ এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, “ডাকাতি মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের ঝালকাঠি আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
https://slotbet.online/