মোঃ মাইদুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থানাধীন মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকায় দুই বছরের শিশু আয়েশা আক্তার আশুরা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও পুরুষ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে শিশু আয়েশা নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা আলমগীর হোসেন চিলমারী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৪, তারিখ: ১৮/০৪/২০২৬)।
ঘটনার পর কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম-এর নির্দেশনায় উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, শিশু আয়েশা পাশের বাড়িতে গিয়ে খেলার সময় আসামি কহিনুর বেগমের ছেলের সঙ্গে খেলার একপর্যায়ে কলম দিয়ে তার চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এতে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে উত্তেজিত হয়ে কহিনুর বেগম তার মুখ চেপে ধরেন। এতে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে বলে তদন্তে উঠে আসে।
পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিকের ড্রামে রেখে রাতের আঁধারে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে যৌথ অভিযানে মোছাঃ কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
গ্রেফতারকৃতদের ১ মে কুড়িগ্রাম আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি কহিনুর বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম, পিপিএম জানান, দ্রুততম সময়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
https://slotbet.online/