শেখ রাজীব হাসান –
দেশের সর্ববৃহৎ সিটি করপোরেশন ‘জিসিসি’ এর নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে সমগ্র গাজীপুর জুড়ে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই শওকত হোসেন সরকারের অনুসারী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা দিতেই বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সংবাদে পরিণত হয়। আনন্দ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয় নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শওকত হোসেন সরকার দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সদস্য সচিব ও আহ্বায়ক হিসেবেও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় তাঁর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। দুই মেয়াদে কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৩ সাল থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের আগপর্যন্ত কাশিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন পারিবারিকভাবেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর রয়েছে গভীর সম্পৃক্ততা। তাঁর বাবা গিয়াসউদ্দিন সরকার প্রায় এক দশক একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। দাদা জবেদ আলী সরকার ও চাচা সোহরাব উদ্দিন সরকারও পৃথক সময়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। প্রজন্মজুড়ে স্থানীয় নেতৃত্বের এই ঐতিহ্য নতুন দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, এলাকাভিত্তিক সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা, স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নগরবাসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই তাঁকে প্রশাসক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, যানজট নিরসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
নিয়োগের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শওকত হোসেন সরকার বলেন, প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য সর্বাধিক সম্মানের। আমি আশা রাখি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য করবো। সিটি কর্পোরেশনকে নাগরিকবান্ধব করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তাই সবাই দোয়া করবেন আমি যেন গাজীপুর সিটির মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারি।
#
https://slotbet.online/