স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশ আমার অহংকার”- এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবা নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
র্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৪ এর আভিযানিক দল ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাতে ঢাকা মহানগরীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর কাফরুলে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর নিকট কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ০৪ জন গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো ১। রানা(৩১), পিতা- মোঃ হাশেম, জেলা- ঢাকা ২। মোঃ সাগর শেখ(২৮), পিতা- কালু শেখ, জেলা- গোপালগঞ্জ ৩। মোঃ কালু (২৮), পিতা- মোঃ মোরশেদ, জেলা- জামালপুর ৪। শশী(২২), পিতা- শেখ আরশাফ@খোকন, জেলা- ঝিনাইদহ ।
মামলার এজাহার ও গ্রেফতারকৃত দুস্কৃতিকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মামলার বাদী এ কে এম এ্যাপারেলস গার্মেন্টস কারখানার মালিক। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় অত্র মামলার বাদী গার্মেন্টসের অফিস রুমে বসে কাজকর্ম করছিল। এ সময়ে অজ্ঞাতনামা ১২/১৩ জন দুস্কৃতিকারী তার অফিস রুমে প্রবেশ করে বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবী করে। বাদী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২ জন অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারী প্যান্টের কোমর থেকে পিস্তুল বের করে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পরবর্তীতে দুস্কৃতিকারীরা বাদীর অফিস কক্ষের লকার ভাংচুর করে এবং ৩ দিনের মধ্যে এক কোটি টাকা চাঁদা না দিলে বাদীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় দুস্কৃতিকারীরা সিসি ক্যামেরার ডিভিআর ও হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে চলে যায় । উক্ত ঘটনায় কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। উক্ত ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে র্যাব-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ৪ জন আসামীকে সনাক্ত করে এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান সনাক্ত করে মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী রানা(৩১)। এ কে এম এ্যাপারেলস গার্মেন্টসটি একটি রিমোট এলাকায় ও যাতায়াতের রাস্থা একটু অনুন্নত হওয়ায় রানা এই গার্মেন্টসটি বেছে নেয়। ঘটনার পূর্বেই রানা উক্ত গার্মেন্টসে যায় এবং আশপাশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারনা নেয়। আসামী রানা জানত যে এখানে ভয়ভীতি দেখালে মোটা অংকের টাকা আদায় করা যাবে। পরবর্তীতে আসামী রানাসহ অন্যান্য আসামীরা অস্ত্রসহ গার্মেন্টসের মালিকের রুমে প্রবেশ করে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। গার্মেন্টস এর মালিক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পিস্তল দিয়ে ২ রাউন্ড ফাকা গুলি করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা ঢাকা মহানগরীর মিরপুর, কাফরুল থানাসহ আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
https://slotbet.online/