ঝালকাঠি প্রতিনিধি | ২৭ জুলাই ২০২৬
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ১০ নম্বর মোল্লাহাট ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সরকারি কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ মোল্লার নামও আলোচনায় রয়েছে। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। আব্দুল লতিফ মোল্লা জানান, তিনি ১৯৯৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী কোনো আইনি জটিলতা না থাকলে অবসরের পর মোল্লাহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল লতিফ মোল্লা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষের নানামুখী সমস্যা, সরকারি সেবা প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবা করতে চান।
আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, “আমি জনগণের শাসক নয়, সেবক হতে চাই। মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই আমার লক্ষ্য।”
এই চেয়ারম্যান প্রার্থী জানান, তার পরিবারে রাজনৈতিক ও সামাজিক সেবার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তার বাবা মো. আব্দুল জামেদ মোল্লা স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোল্লাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত হন। এছাড়া তার স্ত্রী মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগম মালা ১৯৯৭ সালে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
আব্দুল লতিফ মোল্লার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।
নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। তার কাজের মূল্যায়ন জনগণই করবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে আবদুল লতিফ মোল্লা বলেন, মোল্লাহাট ইউনিয়নে বাল্যবিবাহ, মাদক, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সরকারি সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, “অবসর-পরবর্তী জীবন মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করতে চাই। জনগণ সুযোগ দিলে সততা, অভিজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।”
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল লতিফ মোল্লার পরিবার এলাকায় সুশিক্ষিত, সুনামধন্য ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, আব্দুল লতিফ মোল্লা নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেতে পারেন।
তবে নির্বাচন কমিশন এখনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে মোল্লাহাট ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনী তৎপরতা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে।
https://slotbet.online/