• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঝালকাঠিতে পালিত হ‌লো জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা ঝালকাঠি শহরে গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, হত্যার আশঙ্কা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমির গাছ কাটার অভিযোগ, ঝালকাঠি সদরে উত্তেজনা নেত্রকোনায় হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি আটক বাঁশখালীর বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ৬০০ মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠিতে জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে ঝালকাঠি জেলা পরিষদ, ৫ শিক্ষার্থী পেল ‘মেধাবৃত্তি-২০২৬’ ঝালকাঠির উন্নয়নে ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝালকাঠিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ ঝালকাঠি সদরে বৃক্ষরোপণ, নতুন ভবনের উদ্বোধন ও উপকারভোগীদের মাঝে সহায়তা বিতরণ

রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ শতাধিক পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা, খুলেছে ২০৪ আশ্রয়কেন্দ্র

Reporter Name / ৩৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

আরাফাত চৌধুরীঃ চট্রগ্রাম,

রাঙামাটিতে টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা করে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রস্তুতি হিসেবে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

 

রাঙামাটি জেলা ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, রাঙামাটি শহরের ১১টিসহ জেলায় মোট ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র এরইমধ্যে খোলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় দশ উপজেলায় প্রায় ১০০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে। এরমধ্যে রাঙামাটি শহরের রয়েছে ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আছে। রাঙামাটি শহরসহ দুই উপজেলা দুই শতাধিক লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে গেছে, জেলা শহরের রূপনগর, শিমুলতলী, মুসলিম পাড়াসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লোকনাথ মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে ২১টি পরিবারের মোট ৭০ জন। তবে অন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিলেও লোক সংখ্যা কম। এছাড়া রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকেন্দ্র।

 

এদিকে বৃষ্টিতে রাঙামাটির জেলার বিভিন্ন জায়গায় ছোট-ছোট পাহাড় ধস, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় থেকে গাছের গুঁড়ির একটা অংশ মাথায় পড়ে লক্ষ্মীবিলাস চাকমা (৭০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী রাঙামাটি পৌর এলাকার পাহাড়ধসের ঝুঁকিপ্রবণ শিমুলতলী পাহাড়ের ঢাল, রূপনগর এলাকার পাহাড়ের ঢাল এবং লোকনাথ মন্দিরসংলগ্ন পাহাড়ের ঢাল এলাকা এবং লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।

 

জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসন সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় রেড ক্রিসেন্ট, পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসহ সবাইকে নিয়ে কাজ করছে প্রশাসন।

 

রাঙামাটি শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া নূরজাহান বেগম বলেন, সকালে (মঙ্গলবার) আমার ঘরের কয়েকটি খুঁটি মাটি থেকে সরে গেছে তাই আমার নাতিসহ আমি আশ্রয়কেন্দ্রে এসে আশ্রয় নিয়েছি। মো. শুক্কুর বলেন, সোমবার রাত থেকে বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে আমরা পরিবারসহ আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি।

 

রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্য চি নু মারমা বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রাঙামাটি জেলায় ১৯০ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। এই মাত্রার বৃষ্টিপাতকে অতিভারী বর্ষণ বলা হয়।

 

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নিশাত শারমিন বলেন, লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আসা শুরু করেছে। একটি মানুষেরও যেন প্রাণহানি না ঘটে সে লক্ষ্যে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। উপজেলাগুলোতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা কাজ করছে।

 

রাঙামাটি জেলায় কত লোক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলায় কত হাজার লোক ঝুঁকিতে রয়েছে, তার পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তবে ইতিমধ্যে পৌরসভার লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ৭০ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ৯০ জন এবং কাউখালীতে ৬০ জন লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে ছোট-ছোট পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও সড়ক বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে মাটি সরিয়ে ফেলছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/