নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুরে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ জেলা কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির বীর যোদ্ধা, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের ১ নং সহ-সভাপতি মাহাদী হাসান মেহেদীর প্রকাশ্য ক্ষোভ ও ফেসবুক স্ট্যাটাস জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আন্দোলনের ক্রান্তিলগ্নে যিনি নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়েছেন,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার এর সাথে একই সাথে গ্রেফতার ও কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাকে ও তার মতো অসংখ্য প্রকৃত ত্যাগীকে বাদ দিয়ে এই কমিটি গঠন করায় সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মাহাদী হাসান মেহেদী প্রশ্ন তোলেন:
”আমরা জুলাই যোদ্ধা” পিরোজপুর কমিটির সদস্যরা কে কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন একটু বলবেন প্লিজ।
তার এই একটি স্ট্যাটাসই প্রমাণ করে যে, ঘোষিত এই কমিটি পিরোজপুরের সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং প্রকৃত আন্দোলনকারীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ বিতর্ক: যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, জেল খেটেছেন, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে কিছু নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীকে কমিটিতে স্থান দেওয়ায় এটিকে রাজপথের কর্মীরা ‘ধুলাই যোদ্ধা’ কমিটি বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
নতুন কমিটির অনেকেরই জুলাই আন্দোলনে যুক্ত থাকার ন্যূনতম কোনো প্রমাণ, ছবি বা গ্রহণযোগ্য কোনো ভূমিকা ছিল না বলে মেহেদীসহ অন্য আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন।
মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মতে, পিরোজপুরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মাইনাস করে এই ধরণের পকেট কমিটি গঠন করার অর্থ হলো জুলাই বিপ্লবের ত্যাগকে অপমান করা।
মাহাদী হাসান মেহেদীর এই যৌক্তিক ক্ষোভের পর পিরোজপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখন একটাই দাবি— অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত ও “ভুয়া” যোদ্ধাদের কমিটি বাতিল করে, রাজপথের প্রকৃত বীরদের মূল্যায়ন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হোক।
https://slotbet.online/