মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
উপযুক্ত নথিপত্র এবং প্রমাণ থাকার পরও নিজেদের আইনসংগত পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে চরম বর্বরতা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অবিরাম প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে একটি অফিসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্তরা হলেন, মূল হোতা ও হুমকি দাতা হিসেবে চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা হলেন— এনজিওর মালিক মো: কামরুজ্জামান হাসান, তার ভাই মো: শাহাদাত হোসেন, আরিফ এবং মো: আক্তারুল ইসলাম। তাদের সকলের বাড়ি সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের অসহায় নারীরা উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও মৌখিক অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪০ লক্ষ পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিবাদীরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং এক পর্যায়ে টাকা চাইতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। এই হামলায় নারীদের শ্লীলতাহানি ও মারধর করা হয়। এখানেই শেষ নয়, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতে এবং আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে মোবাইল ফোনে প্রতিনিয়ত খুন ও গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আক্ষেপ করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে নারীদের ওপর এমন নির্যাতন এবং পরবর্তীতে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পরও অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে এই প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পুরো পরিবারটি চরম আতঙ্কে এবং সাংবাদিক পরিচয় দানকারী শাহাদাত হোসেন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে অসহায় পরিবারটি অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার জন্য এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত কামরুজ্জামান হাসানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার সাড়া পাওয়া যায় নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামূল হোসাইন বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখবো, তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
https://slotbet.online/