জ্যোতি বাছাড় (খুলনা) :
খুলনার দাকোপ উপজেলায় মাত্র ১০ দিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশুকে অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির আপন চাচাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দাকোপ উপজেলার নলিয়ান ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল সানার ১০ দিন বয়সী কন্যা মাবিয়া গত ৩০ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বাজুয়া খ্রিষ্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা তানিয়া বেগম (৩০) অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনের সহযোগিতায় শিশুটিকে অপহরণ করেন। ঘটনার সময় শিশুটির মা ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সুযোগে অপহরণকারীরা নবজাতককে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর শিশুটির পরিবার দাকোপ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বাজুয়া এলাকা থেকে তানিয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকেই অপহৃত নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়া বেগম অপহরণের ঘটনায় শিশুটির আপন চাচা এস এম গোলাম রব্বানী-র সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোলাম রব্বানীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রফিকুল সানা বাদী হয়ে তানিয়া বেগমসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে দাকোপ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তানিয়া বেগম স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে নিয়মিত ওই এলাকায় যাতায়াত করতেন। সেই সুযোগে তিনি নবজাতক শিশুটিকে অর্থের বিনিময়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু শিশুটির বাবা-মা এতে রাজি না হওয়ায় পরে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ খায়রুল বাশার জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়া বেগম শিশুটির চাচার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নবজাতককে দ্রুত উদ্ধার করায় পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও, এত অল্প বয়সী একটি শিশুকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
https://slotbet.online/