মাসুম খান,ঝালকাঠি প্রতিনিধি | ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, ঝালকাঠির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় জেলার গ্রামাঞ্চলে সড়ক, কাঁচা রাস্তা, সেতু, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উন্নয়ন ও সহায়তা বিতরণ-সংক্রান্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের নতুন সূচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। অতীতের জুলুম, নির্যাতন, গুম ও হত্যার পুনরাবৃত্তি নয়; বরং উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে চায় বিএনপি।
স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে বেকারত্ব হ্রাস, কৃষির আধুনিকায়ন এবং পুষ্টিকর খাদ্য সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণেও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
ঝালকাঠির উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ ঝালকাঠি গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, ঝালকাঠিতে দেশের প্রথম ‘কালচারাল ভিলেজ’ বা সাংস্কৃতিক পল্লী নির্মাণে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে।
এছাড়া আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ কমপ্লেক্স নির্মিত হলে খেলাধুলার প্রসারের পাশাপাশি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গাবখান চ্যানেলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম নৌপথ। এর সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কেওড়া ইউনিয়নের সারেঙ্গল বাজার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাজার রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে ঝালকাঠিতে ৩০ হাজার গাছ রোপণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি। এ সময় তিনি প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ঝালকাঠি’ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য জেলা গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া সুকায়না, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদারসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ, কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও কৃষি উপকরণ প্রদান এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
https://slotbet.online/