নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর (গাজীপুর):
গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি প্রবাসী পরিবারের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরতা ও নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা চালিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে এক প্রবাসী, তাঁর বৃদ্ধা মা ও চাচাকে। ভাঙচুর ও লুটের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। এখানেই শেষ নয়, ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে প্রতিপক্ষ নিজেদের ঘরে নিজেরা আগুন দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের লাকচতল দেদুয়ার গ্রামে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্তরা হলেন, মোঃ রুবেল মিয়া (৪০) ২। মোঃ সবুজ মিধা (৪২) উভয় পিতা- মোঃ মতিন, ৩। মোঃ শরিফ মৃধা (৩৫) পিতা- মোঃ ছামাত মৃধা, ৪। মোঃ মতিন মৃধা (৬৫) ৫। মোঃ ছামাদ মৃধা (৫৫) উভয় পিতা- মৃত হারেজ আলী মৃধা, ৬। মোছাঃ তাকমিনা (২৫) স্বামী- মোঃ রুবেল মৃধা, ৭। মোঃ জরিনা আক্তার (৬০) স্বামী- মোঃ মতিন মৃধা, ৮। মোছাঃ হোসনাহার (৫০) স্বামী- মোঃ ছামাদ মৃধা, সর্ব সাং- দেদুয়ার, ইউনিয়ন- বরমী, সর্ব থানা- শ্রীপুর, জেলা- গাজীপুর ৯। মোঃ সিরাজ (৪৫) পিতা- মৃত শাহেদ আলী মেম্বার, ১০। মোঃ মুরাদ হোসেন (২০) পিতা- মোঃ সিরাজ, উভয় সাং- বড়াই, থানা- পাগলা, জেলা- ময়মনসিংহ সহ আরো অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেদুয়ার গ্রামের মোছাঃ তাছলিমা আক্তারের স্বামী মজিবুর মৃধার পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল প্রতিবেশী ভূমিদস্যু মতিন মৃধা ও ছামাদ মৃধা গং। এ নিয়ে স্থানীয় শালিস অমান্য করে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুন সকাল আনুমানিক ১০টায় রামদা, লোহার রড ও লাঠিসোঁটায় সজ্জিত হয়ে ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল মজিবুর মৃধার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের বাধা দিলে দুবাই প্রবাসী গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইমরান মৃধা (৩০) ও তাঁর মা তাছলিমা আক্তারকে (৫০) এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে উঠানে ফেলে রাখা হয়।
আহত ইমরানকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও হানা দেয় সন্ত্রাসীরা। দুপুর ২টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রকাশ্য দিবালোকে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসাধীন ইমরানের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়। হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীদের সামনেই তাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিরোধে খুনের হাত থেকে রক্ষা পান ইমরান। (হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে এই হামলার দৃশ্য বন্দি রয়েছে বলে জানা গেছে)।
প্রবাসী ও তাঁর মা হাসপাতালে থাকার সুযোগে বিকাল ৪টার দিকে বিবাদী পক্ষ পুনরায় ওই বাড়িতে চূড়ান্ত তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীরা ইমরানের চাচা আতাবুদ্দিনকে (৫০) হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং রডের আঘাতে তাঁর ডান পা ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়।
এ সময় চাচী মুর্শিদা আক্তার বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে তাঁর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে অর্ধবিবস্ত্র করা হয় এবং চুলের মুঠি ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। বিবাদী জরিনা আক্তার গৃহবধূ মুর্শিদার গলা টিপে ধরে এবং গলা থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
নৃশংস মারধরের পর সন্ত্রাসীরা প্রবাসী ইমরানের ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে দেড় লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এরপর আলমারির ড্রয়ার ভেঙে ব্যবসার নগদ ২ লাখ টাকা এবং ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার (যার বাজার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা) লুটে নিয়ে বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে। বর্তমানে গুরুতর জখম আতাবুদ্দিন ও মুর্শিদা আক্তার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
অপরাধ ঢাকতে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে এরপরই শুরু হয় প্রতিপক্ষের দুর্ধর্ষ ‘আগুন নাটক’। বিবাদী মতিন ও ছামাদ মৃধা নিজেদের খড়ের মাচা এবং রান্নাঘরের শুকনো পাতায় নিজেরাই আগুন ধরিয়ে দেয় এবং প্রবাসী ইমরান গংদের নামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তোলার চেষ্টা করে। তবে ঘটনার সময় ইমরান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং মতিনের আপন ভাবিসহ এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমের ক্যামেরায় স্বীকার করেছেন যে, মতিন ও ছামাদ নিজেরাই তাদের ঘরে আগুন লাগিয়েছে।
এদিকে এই নৃশংস ঘটনার পর পুলিশ রহস্যজনকভাবে মূল অপরাধীদের আড়াল করে ভুক্তভোগী প্রবাসী ইমরান মৃধা ও তাঁর ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। থানা হেফাজত থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমরান মৃধা বলেন:”আমরা যখন হাসপাতালে চিকিৎসারত, তখন সন্ত্রাসীরা আমাদের হসপিটালে পিটিয়েছে। সিসিটিভি দেখলেই সব প্রমাণ পাওয়া যাবে। আর আমাদের ফাঁসাতে নিজেরা নিজেদের ঘরে আগুন দিয়েছে। অথচ পুলিশ মূল অপরাধীদের না ধরে আমাদের দুই ভাইকে ধরে এনেছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম দুই পক্ষের অভিযোগে আটক করা হয়েছে আমি মিটিংয়ে আছি বিস্তারিত তথ্য পরে জানাতে পারব।
https://slotbet.online/