ঝালকাঠি প্রতিনিধি: শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ১২৩ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠির উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ করেছে। প্রাধান শিক্ষক পলাশের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও তিনি যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তাদেরই একজন প্রভাবশালী নেতার আশ্রয় নিয়ে তার কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন বলে জানাগেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল কর্তৃক জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিবন্ধন (eSIF) ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ১২৩ টাকা। তবে ঝালকাঠি শহরের উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশনায় ২৭৫ টাকা ফি নির্ধারণের কথা জানানো হয়। পরে ২ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত নির্দেশনায় ফি কমিয়ে ১২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথম নির্দেশনাটি অনুসরণ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় অব্যাহত রাখে। এমনকি সংশোধিত নির্দেশনা জারির পরও তারা বিষয়টি অবহিত ছিল না দাবি করে পূর্বের হারেই টাকা নিতে থাকে। ফলে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে প্রায় দ্বিগুণের বেশি অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে লিটন হোসেন, শাহাদাত খান, মিরাজ ডাক্তারসহ কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোর্ড নির্ধারিত ফি ১২৩ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমরা বিষয়টি জানতে চাইলে তারা ৩০০ টাকা নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম দুর্নীতি মেনে নেয়া যায় না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ বলেন, “প্রথমে যে নির্দেশনাটি পেয়েছিলাম সেখানে ২৭৫ টাকা ফি উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে সংশোধিত চিঠিটি আমরা পাঁচ দিন পরে দেখতে পাই। তাই আগের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা সমন্বয় করে টাকা ফেরত দিয়ে দিবো। তবে বেশি অর্থ নেয়া ও ২য় চিঠির নির্দেশনা ৫ দিন পরে কেন জানলেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পরেন নি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, “যেহেতু এ বিষয়ে অভিযোগ এসেছে, তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনিক দায়িত্ব। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। সভায় উপস্থাপন করে ও অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
#
https://slotbet.online/