স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে অবস্থিত ব্রিটেনিয়া ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ক্রয়কৃত জমি “অস্বাভাবিক কম দামে” বিক্রি হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি গুরুতর অনিয়মের সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এ প্রেক্ষিতে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ব্যাখ্যা দিতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে কমিশন।
ইউজিসির একাডেমিক শাখা থেকে জারিকৃত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ২২০ শতক জমি ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকায় ক্রয়ের লক্ষ্যে পার্ক ভিউ লিমিটেডের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা বায়না দিয়ে ৮৬৬২ নং বায়নাপত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও, পার্ক ভিউ লিমিটেড অবশিষ্ট টাকা গ্রহণের আগেই ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর উক্ত জমি মেঘনা বেভারেজ লিমিটেডের নামে মাত্র ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় বিক্রি করে।
তদন্ত কমিটি মনে করছে, “অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে” জমি বিক্রি করায় পার্ক ভিউ লিমিটেড ও মেঘনা বেভারেজের যোগসাজশ থাকতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ায় সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিটেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও।
কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুসারে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১২ বছরের মধ্যে নিজস্ব জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ বাধ্যতামূলক। এছাড়া ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৮২ এবং সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি “সরকারি সম্পদ” হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইউজিসির চিঠিতে এমজিআই-কে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, এবং সদস্য নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মুহাম্মদ ইসমাইল (পিএইচডি)।
এই বিষয়ে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
https://slotbet.online/