নিজস্ব প্রতিবেদক : গত বছরের ৫ অগাস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের ফলে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের পর ছাত্র জনতার অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের জনসাধারণ কে সুরক্ষা দিতে মাদক বিরোধী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্র দমন, অপারেশন ডেভিল হান্ট অপারেশন পরিচালনা করেছেন। সরকারি অফিস আদালতে অনিয়ম ,ও দুর্নীতি দমন করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কে ঢেলে সাজিয়েছেন।এছাড়াও অন্তবর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সারা দেশের জনসাধারণের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকারের জনকল্যাণমুখী ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছেন।
এদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত দেশের জনসাধারণের জনস্বাস্থ্য রক্ষার পদক্ষেপ কোন প্রকার সুফল কাজে আসছে না শুধুমাত্র অসাধু ঔষধ কোম্পানির মালিকপক্ষ কর্তৃক বিতর্কিত ঔষধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার কারণে। আর এসব ঔষধ কোম্পানির বিতর্কিত মালিক পক্ষ বিতর্কিত ঔষধের বিকিকিনি জমজমাট ব্যাবসা করছে খোদ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন ও অবৈধ সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায়।
সাম্প্রতি এমনই এক অভিযোগ উঠেছে আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লি: এবং আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানী) নামক প্রতিষ্ঠান এর মালিক এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নথি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তারা পরস্পর যোগসাজশে ভেজাল ও মানহীন ঔষধ সামগ্রীর উৎপাদন ও বাজারজাত অব্যাহত রেখেছেন।
প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী জানা গেছে, আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লি : এর উৎপাদন লাইসেন্স নং-আয়ূ০৮৬, ঠিকানা ঢাকা বাংলাদেশ এবং আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানী) এর উৎপাদন লাইসেন্স নং-২৯৮, ঠিকানা ঢাকা বাংলাদেশ। উক্ত ঔষধ কোম্পানির মালিকপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয় ইউনানী আয়ুর্বেদিক ফর্মুলারী এবং বাংলাদেশ জাতীয় আয়ুর্বেদিক ফর্মুলারীর বাইরে গিয়ে তাঁদের নিজের ইচ্ছেমতো কালার , ফ্লেভার ও কেমিক্যাল দিয়ে ঔষধ তৈরি করে ঔষধের নাম, লেবেল কার্টুন ছাপিয়ে ঔষধের গুনগত মানের তোয়াক্কা না করেই বাজারজাত করছেন ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ। তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের এ অবৈধ জনস্বাস্থ্য বিরোধী কর্মকান্ডে সহায়তা দিয়ে আসছে খোদ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নথি সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তরা। এর মধ্যেি একজন পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক এবং নথি সংশ্লিষ্ট উচ্চমান সহকারী। এছাড়াও জড়িত আছেন সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
তাদের খালিদ বাজার ডটকম নামে একটি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে। নিয়মিত অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে মানহীন পন্য সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় এবং আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানী) এর উৎপাদিত ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধের মধ্যে, আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লি : এর উৎপাদিত কামিনী বিদ্রাবণ রস (হালওয়া), শুক্রসুধা (হালওয়া), বৃহতচন্দ্রদয় মকরধ্বজ ট্যাবলেট, আইকে আমলকি রসায়ন, আইকে দশমুলারিস্ট, আইকে রোজ ভিট ,সরবত তুলশী, আই,কে গোল্ড ট্যাবলেট এবং আই,কে অর্জুনারিস্ট সিরাপ।
আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) এর উৎপাদিত ঔষধের মধ্যে আরক ডাইকোপ্লেক্স, (ফওলাদ সাইয়াল) আরক ডাইকোপ্লেক্স গোল্ড (ফওলাদ সাইয়াল) সিরাপ, নাইট্রিন (জিরিয়ানী), কার্ডিফেক্স সিরাপ, আই,কে ভিট সিরাপ, আই,কে জিনসিন (শরবত জিনসিন) এবং বাসক সিরাপ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কয়েকটি পন্যের কার্যকারিতা মূল্য নির্ধারণ নিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধে একাধিক ভুক্তভোগী দাবি , আয়ুর্বেদিক পণ্যের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সেবা গ্রহীতারা। বৃহৎ চন্দ্রোদয় মকর ধ্বজ নামের এ পণ্যটি বীর্য স্থাপক রতি সম্পাদক ও বলবীর্য বর্ধক প্রতিরোধক। এ পণ্যটির প্রতি প্যাকে ৩০ টি ট্যাবলেট মূল্য নির্ধারণ করেছেন ন’শত টাকা। সেক্স সুয়াল আরেকটি পন্য ডামিয়াগরা পুরুষের যৌন সমস্যা লিঙ্গে উত্থানে বিফল, কাম শক্তির অভাব, শীঘ্র বীর্যপাত অবসাদ ,ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে কার্যকর। অনলাইনে এর মূল্য নির্ধারণ করেছে সাত’শ টাকা। এদিকে ডিবেডেক্স ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র নিয়ন্ত্রক এর ইনসুলিন নিঃসরণকারক রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় বিটাসেলকে রক্ষা করে ও পুনরুজ্জীবিত করে এবং রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। তবে এ পণ্যটির মূল্য নির্ধারণ করেছে ৮১০ টাকা। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ওই সকল মানহীন পন্য ব্যবহারে মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতিকর উপসর্গ দেখা দেখা দিয়েছে একাধিক ব্যবহারকারীর মানবদেহে। নিম্নমানের পণ্য তৈরি করে অনলাইনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেশি দামে সরবরাহ করে প্রতারণা করেছেন অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছেন। কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা গোপনে লাভবান হচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, দ্রুত সরকারের নজরদারি বাড়িয়ে এসকল ভেজাল পন্য প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
উল্লেখ্য যে, আয়ুর্বেদিক ঔষধ হল ভেষজ উপাদান থেকে তৈরি এক প্রকার ঔষধ যা আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতি – এ ব্যবহৃত হয়। এটি ৫০০০ বছরের বেশি পুরনো চিকিৎসা ব্যবস্থা মূলত গাছপালা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে রোগ নিরাময় কাজ করে । আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিভিন্ন ভেষজ ,খনিজ, এবং প্রাণীজ উপাদান ব্যবহার করা হয়। তবে এর মূল ভিত্তি ভেষজ, উপাদান হলেও অসাধু আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরির মালিকগণ বিভিন্ন নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ব্যবহার করে মানবদেহে কঠিন ব্যধি সৃষ্টি করেছেন। লাভবান হচ্ছে অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী এবং ভেজাল ওষুধ তৈরির কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী।
https://slotbet.online/