• বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাংলায় লোক সংস্কৃতি চর্চায় জহিরগীতি’র অবিচ্ছিন্ন অংশ বাউল ছালমা  পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সিনার উদ্যোগে গণমাধ্যমকর্মীর সম্মানে ইফতার মাহফিল  কুয়াকাটা পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রম শুরু শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র পৃথক দুই অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ আটক ১ ঝালকাঠি বাকশিস (সেলিম ভূঁইয়া)’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মালদ্বীপে এসএসপি’র উদ্যোগে প্রবাসী সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাব-৫ অভিযানে মাদকসহ আটক ৩ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এভসেকের সফল অভিযান: সৌদি আরবগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে ৪,৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ব্রহ্মপুত্রে নাব্যতা সংকট: ফেরি চলাচলে চিলমারী-রৌমারী রুটে ভোগান্তি

সাবেক আওয়ামীলীগের প্রেতাত্মা চিহ্নিত আমির হোসেন আমুর পালিত পুত্র পরিচয়ে বরিশাল গণপূর্তে স্বৈরাচারের অন্ধকার সাম্রাজ্য : বেপরোয়া নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম, ছায়াসংগী তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস ও সহকারী প্রকৌশলী মামুন রারি

Reporter Name / ১০৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিনিধি (বরিশাল) : “আমি হলাম স্বৈরাচার বরিশাল গণপূর্ত করবো ছারখার” বাবা আমার আমু পেট ভরে গণপূর্তের সবকিছু-খামু ” এই ঘোষণা যেন এক অদৃশ্য মন্ত্রে পরিণত হয়েছিল সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে।

 

আর সেই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে পুরো বরিশাল গণপূর্তকে নিজের দূর্ণীতির সাম্রাজ্যে পরিণত করেন একজন প্রকৌশলী—ফয়সাল আলম। বাস্তব জীবনে কথিত ছিলো তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুর “পালিত পুত্র”। সেই পরিচয়ের জোরে দক্ষিণাঞ্চলের গণপূর্ত অফিসগুলোতে ছড়িয়েছেন দোর্দণ্ড প্রতাপ।

 

ক্ষমতার ছত্র- ছায়ায় দুর্নীতির উত্থান : প্রথমে ঝালকাঠি, পরে বরিশাল—দুই জায়গাতেই নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ার দখল করেন ফয়সাল। দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় বেনামী ঠিকাদারি ব্যবসা, টেন্ডারবাজি আর ভুয়া বিল-ভাউচারের খেলা। অর্থ লোপাটের পাশাপাশি তিনি ঢালাও খরচ করেছেন রাজনীতির মাঠে। পালিত বাবা আমুর নির্বাচনী কাজে অর্থ ঢেলেছেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় গচ্ছিত টাকা খরচ করেছেন, এমনকি স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন দমাতেও ছাত্রলীগের হাতে প্রায় ২০ লাখ টাকা বিলিয়েছেন।

ঝালকাঠির অন্ধকার অধ্যায় : ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ঝালকাঠির দায়িত্বে থেকে ফয়সাল আলম ছিলেন দুর্নীতির “কিংবদন্তি”। এলটিএম টেন্ডারে ব্যাপক জালিয়াতি, সদর মডেল মসজিদ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, এনএসআই ভবন, পুলিশ লাইনের মেস—সব জায়গাতেই দুর্নীতি তার ছাপ রেখে যায়। কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে, কিন্তু আমুর ছায়াতলে থাকায় দুদকের অভিযোগও হয়ে যায় মুখস্ত কাগজ।

 

সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি আড়াল করতে সাইনবোর্ড বদলের অপ-কৌশল : গত বছরের ৫ আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের ফলে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পর অন্তবর্তীনকালীন সরকারের গঠনের পরেও নিজেক বাচাতে তিনি আওয়ামী পরিচয় গোপন করে “বিএনপিপন্থী” কর্মকর্তার জার্সি পরিধান করেন । অবৈধ অর্থের জোরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইইবি বরিশাল কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদেও আসীন হন।

 

সিন্ডিকেটের রাম- রাজত্ব : বরিশালে এসে ফয়সাল গড়ে তোলেন ভয়ঙ্কর এক লুটেরা সিন্ডিকেট। খান বিল্ডার্স, খান ট্রেডার্স, বাবর অ্যাসোসিয়েটস, এসএ এন্টারপ্রাইজসহ একঝাঁক প্রতিষ্ঠান তার ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেয়। শেবাচিম ক্যান্সার ইউনিটের কাজ দুই দফা বাড়িয়ে ২৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পে ৯৯ কোটি টাকায় ভবন নির্মাণের পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ দেখিয়ে পুরো বিল আদায় করা হয়—কিন্তু মালামাল সাইটে বসানোর জায়গাই নেই! একইভাবে বরিশাল নভোথিয়েটারের অর্ধেক ভবনও শেষ হয়নি, অথচ কোটি কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, সাউন্ড সিস্টেম, জেনারেটর, এসি সরবরাহ দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

 

বদলির নাটক ও অদৃশ্য শক্তি : গত বছরের ৫ আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন সংগ্রামের ফলে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের পর কর্তৃপক্ষ তার বদলির আদেশ দেয়, কিন্তু পরিবহন ব্যাবসায়ী ও বরিশালের শক্তিশালী ঠিকাদার মিজান খান (কাশি মিজান) ও নাসির খান ম্যানেজ করে তাকে বহাল রাখে। সাধারণ ঠিকাদাররা প্রশ্ন তোলে—যেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ক ক্যাপাসিটি না থাকায় টেন্ডার বাতিল হয়েছিল, তারা কীভাবে আবার জেভির মাধ্যমে কাজ পেল? উত্তর মেলে ফয়সালের “ঘুষতন্ত্রে”।

 

প্রকল্পের নামে লুটপাটের মহোৎসব : শেবাচিম হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট নির্মাণে দুই দফা ব্যয় বাড়িয়ে বরাদ্দ হয় ২৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে বেজমেন্টসহ ১৫তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের গোপন ব্যবসায়িক পার্টনার খান বিল্ডার্স নামক প্রতিষ্ঠানটি এ কাজের বাস্তবায়নে রয়েছে।

 

ভবন নির্মাণ পুরোপুরি শেষ না হলেও ২০৩৪-২৪ অর্থবছরে ৪,৮৪,১০,৫০৮ টাকা চুক্তিমূল্যে ওই ভবনের জন্য পিবিএক্স সিএটিভি/ডিস পিএ সিস্টেম ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম সোলার সিস্টেম পিএবিএক্স সিসিটিভি কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং গ্রীড সোলার সিস্টেম নার্স মনিটরিং সিস্টেম ডিঙ্কিং ওয়াটার পিউরিফায়ার সিস্টেম; একই অর্থবছরে ৫,৯৫,৮০,০০০ টাকা

 

চুক্তিমূল্যে মেডিকেল ওয়াস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ৫,৩৬,১৬,৪৭৪ টাকা চুক্তিমূল্যে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ৫,৯৪,৪৩,৯৮০ টাকা চুক্তিমূল্যে ডিস্ট্রিবিউশন লাইনসহ মেডিকেল গ্যাস সিস্টেম সরবারহ ও স্থাপণ; ৩,১৪,১৯,৫১৩/- টাকা চুক্তিমূল্যে ফায়ার ফাইটিং ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম সরবরাহ ও স্থাপন কাজ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০,৮৮,৯৮,৮৮৪ টাকা চুক্তিমূল্যে ২টি ১৫০০ কেভি সাবস্টেশন এইচটি এলটি সার্ভিস ক্যাবল ৫০০ কেভি জেনারেটর ও পাম্প মোটর সেট সরবরাহ কাজগুলোতে মালামাল সরবরাহ দেখিয়ে ঠিকাদারদের পুরো বিল পরিশোধ করে প্রায় ২ কোটি টাকা লোপাট করেছেন প্রকৌশলী ফয়সাল আলম।

 

অথচ এ সকল মালামাল নির্দিষ্ট সাইটে স্থাপণের প্রয়োজনীয় জায়গার সংকুলান হয়নি এখনও। চাইনিজ ব্র্যান্ডের নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ডিভিশনটির প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।

 

একইভাবে বরিশালে নভোথিয়েটার স্থাপণ প্রকল্পে ভবন নির্মাণের কাজ অর্ধেক শেষ না হলেও শূধুমাত্র কোটি টাকা লোপাটের উদ্দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬,২১,৭৭,৪৫২ টাকা চুক্তিমূল্যে ফিডার ক্যাবলসহ ২০০০ কেভিএ সাবষ্টেশন ৪০০ কেভি জেনারেটর ৪০০ কেভি সাবস্টেশন ১৫০ কেভি জেনারেটর; ১১,৪৯,৯৯,০০০ টাকা চুক্তিমূল্যে এসি সরবরাহ ও স্থাপন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট কাজসহ পাম্প মোটর সেট পিএবিএক্স ও ইন্টারকম সিস্টেম সাউন্ড/পিএ কনফারেন্স সিস্টেম অডিটোরিয়াম সাউন্ড সিস্টেম স্টেজ লাইট ও ভিডিও ওয়াল অডিটোরিয়াম স্টেজ কারটেইন সরবরাহ ও স্থাপণ কাজগুলোর সকল মালামাল সরবরাহ দেখিয়ে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

 

নিম্নমাণের মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে এই ক্ষেত্রেও। এছাড়াও ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বকয়েক কোটি টাকা বরাদ্দে দুর্গাসাগর ট্যুরিজম ফ্যাসালিটিজ প্রকল্প, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১,৪৭,৮২,৭৭০/- টাকা চুক্তিমূল্যে সার্কিট হাউজ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১,০৭,৯৫,০৩২/-টাকা চুক্তিমূল্যে জেলা প্রশাকের বাসভবনে বিভিন্ন ধরণের মেরামত পুণঃ বাসন কাজগুলোেেত ওভার ইষ্টিমেটের মাধ্যমে ৩/৪গুণ বেশী বরাদ্দ করিয়ে বেশীরভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে জোড়ালো অভিযোগ রয়েছে।

 

স্বৈরাচারের উত্তরাধিকার : ঝালকাঠির রাজাপুরের ফয়সাল আলম—একসময় খুয়েট ছাত্রলীগ নেতা, পরে আমুর পালিত পুত্র, আর আজ বরিশাল গণপূর্তের দুর্নীতির সম্রাট। বদলির আদেশ অমান্য করে এখনও বহাল, এখনও সিন্ডিকেটের সর্দার। ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার কোনো জবাব মেলেনি। কিন্তু বরিশাল শহর আজও গুঞ্জরিত “স্বৈরাচার ফয়সালের রাজত্ব কি শেষ হবে?”-


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/