• বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ইউনিয়নেই চিকিৎসা পৌঁছাবে, হাসপাতালে চাপ কমানোর পরিকল্পনা সরকারের –ড. জিয়া হায়দার রাজাপুরে জুলাই যোদ্ধার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন দুস্থ মানুষের পাশে ঢাকাস্থ নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন: শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নই কি মূল চাবিকাঠি: রেজাউল করিম ঝালকাঠিতে পরিবেশ রক্ষায় বিষেশ নাগরিক সভা নবগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খলিলের আয়োজনে ইফতার মাহফিল  নববধূকে নিয়ে আকাশপথে গ্রামে আগমন, নজর কাড়লেন সুমন দেশবাসীকে বিরোধীদলীয় নেতার ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঝালকাঠিতে যুবদল নেতার উদ্যোগে ১৫শ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

ইউনিটি ল্যাবরেটরিজ (ইউনানি) এর লাইসেন্স স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পাঁয়তারা : নেপথ্যে কাজ করছে পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো : সফিকুল ইসলাম।

Reporter Name / ২১৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ সহোচর ও আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট ডোনার আনোয়ার হোসেন রানা ওরফে রয়েল রানা ( ফটকা রানা ও ডেসটিনি রানা হিসেবে পরিচিত) এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পরও পূর্বের ন্যায় এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ডের ব্যানারে দিব্যি প্রতারণা করে যাচ্ছেন।

 

সূত্র মতে, ভেজাল ও নিম্নমানের ইউনানী ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট এর ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। ভেজাল ও অনুমোদনের বাইরে ঔষধ উৎপাদনের অভিযোগে তার মালিকানাধীন ইউনিটি ইউনানী ল্যাবরেটরিজ (কাগজ পত্রে এক্সিলেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস এন্ড ইউনানী ল্যাবরেটরিজ লেখা হয়, যা আইনসিদ্ধ নয়) এর লাইসেন্স স্থগিত করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সম্প্রতি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো : সফিকুল ইসলাম ও নথি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নথি সংশ্লিষ্ট উচ্চমান সহকারী কে ম্যানেজ করে কারখানা পরিদর্শন করিয়েছেন। উপরোক্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কারণে আবার লাইসেন্স এর স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। অপর একটি সুত্রের দাবি মেসার্স ইউনিটি ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) লি: এর উৎপাদন লাইসেন্স টি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক মেশিন অপারেটর কাম পিয়ন সহিদের মাধ্যমে কেনেন। উল্লেখ্য এই কোম্পানিটি এক সময় খুলনা আব্দুর সনুর খান রোডে ঋিলো এর সাবেক মালিক মো: শহিদুল ইসলাম কচির মৃত্যুর পর কচির স্ত্রী তাসলিমা খাতুন কোম্পানিটি মেশিন অপারেটর কাম পিয়ন সহিদের মাধ্যমে লাইসেন্স টি বিক্রি করে দেন। সে কারণে ই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক মেশিন অপারেটর কাম পিয়ন সহিদের মাধ্যমেই লাইসেন্স এর স্থগিত আদেশ টি প্রত্যাহার করার কাজটা করা হচ্ছে। উক্ত লাইসেন্স টি প্রত্যাহার করতে ৩ জন নথি সংশ্লিষ্ট পরিচালক, উপপরিদর্শক, সহকারী পরিচালক, ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক , নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উচ্চমান সহকারী কে দিতে হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ।

সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলীয় ছত্রছায়ায় রয়েল রানা সারা দেশে এম এল এম ব্যবসার নামে প্রতারণার জাল বিস্তার করেন। জনসাধারণের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক রাখার জন্য আওয়ামী লীগ কে নিয়মিত অনুদান দিতেন। কেবল শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন।

 

এছাড়া আওয়ামী লীগের সকল অনুষ্ঠানে নিয়মিত অনুদান দিয়েছেন। ফলে প্রতারিত ভূক্তভোগী তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন।

এদিকে আওয়ামী সরকার পতনের পরও থেমে নেই রয়েল রানার অপকর্ম। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছেন। এমনকি নিজেকে রক্ষার জন্য বিএনপি নেতা এনি তার আত্মীয় বলে প্রচার করছেন। এমনকি জনরোষ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তার অফিসে আব্দুর রহিম নামের এক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন কে রেখেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ডের পাওনাদাররা জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এই সভায় রয়েল রানা ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করে নারীসহ অনেক বিক্ষোভকারিকে মারাত্মকভাবে আহত করে। তার বিরুদ্ধে সারাদেশে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। রহস্যজনক কারণে তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রয়েল রানার মালিকানাধীন ইউনিটি ইউনানী ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) লি : কর্তৃক অনুমোদন ব্যতীত ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের অভিযোগে কোম্পানীর লাইসেন্স স্থগিত করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। লাইসেন্স স্থগিত করার পরও গোপনে ঔষধ উৎপাদন ও বাজারজাত করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ওই সুত্রটি আরও দাবি করেন যে মেসার্স ইউনিটি ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) লি : ঔষধ উৎপাদনকালে ঔষধের লেভেল কার্টুনে পূর্বের উৎপাদন তারিখ দেখিয়ে অবৈধভাবে ঔষধ বাজারজাত করে।

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য একটি সুত্রে জানা গেছে ঔষধ ও কসমেটিক আইন,২০২৩ এর ১৮(১) ধারা লংঘনের দায়ে একই আইনের ১৮(৩) মোতাবেক মেসার্স ইউনিটি ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) লি: সহ বেশকিছু ঔষধ কোম্পানির উৎপাদন লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স ইউনিটি ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) লি: প্লট নং-এস -২৬, বিসিক শিল্পনগরী কাঁচপুর সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ এর উৎপাদন লাইসেন্স নাম্বার – ইউ-০১১। উক্ত কোম্পানির ঔষধ উৎপাদন লাইসেন্স নং- (ইউনানী-০১১) সাময়িক স্থগিত করা হয়। যার স্মারক নং-ডিজিডিএ/ইউ-৯৭ /(অংশ-৩) / ১২/২১৬৪৭।তারিখ -৩০ /১২/২০২৪। এখানে মজার বিষয় টা হলো গত বছরের ১২ ডিসেম্বর লাইসেন্স টি সাময়িক স্থগিত করা হলেও লাইসেন্স স্থগিত সম্পর্কিত পত্রিকায় গনবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় চলতি বছরের ১৯ জুন। লাইসেন্স স্থগিত সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি টি যদি ৬ মাস পর দেওয়া হয় তাহলে ওই ৬ মাসে যে পরিমাণ ঔষধের উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয় সে সকল ঔষধের গুনগত মানের বিষয় টা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নথি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্থানীয় জেলা কর্মকর্তা ও প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চমান সহকারী একপ্রকার রহস্যজনক ভূমিকা পালন করে উক্ত সাময়িক স্থগিত করা কোম্পানির মালিকপক্ষ কে অবৈধভাবে ঔষধ উৎপাদন ও বাজারজাতে একপ্রকার উৎসাহ দেওয়া।

 

সূত্র আরো জানিয়েছে, রয়েল রানা এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ডের ব্যানারে সরকারের অনুমোদন ছাড়া ভেজাল ও নিম্নমানের ফুড সাপ্লিমেন্ট ও প্রসাধনী আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন করছেন। যাতে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ডের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, রয়েল রানার ব্যবসা আপাদ মস্তক প্রতারণাপূর্ণ ও জনস্বাস্থ্য বিরোধী ।

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত অনুমোদন ছাড়া ভেজাল ও নিম্নমানের ফুড সাপ্লিমেন্টের উৎপাদন ও বাজারজাত অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়াও অবৈধভাবে প্রসাধন সামগ্রীর আমদানি ও উৎপাদন করে চড়া মূল্যে বাজারজাত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কর্মচারীদের বেতন না দিয়ে ঠুনকো কারণে চাকুরিচ্যুত করা এটা যেন তার এক ধরনের রিতী রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তিনি সহ অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন পাওনা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

জনস্বার্থে এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ডের ভেজাল ও নিম্নমানের ফুড সাপ্লিমেন্ট ও প্রসাধনী আমদানি, উৎপাদন ও বিপণনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর রয়েল রানাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীগণ।

 

এবিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য রয়েল রানার মোবাইলে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায় বিধায় তার কোন প্রকার বক্তব্য প্রকাশিত হলো না ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/