• বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ইউনিয়নেই চিকিৎসা পৌঁছাবে, হাসপাতালে চাপ কমানোর পরিকল্পনা সরকারের –ড. জিয়া হায়দার রাজাপুরে জুলাই যোদ্ধার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন দুস্থ মানুষের পাশে ঢাকাস্থ নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন: শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নই কি মূল চাবিকাঠি: রেজাউল করিম ঝালকাঠিতে পরিবেশ রক্ষায় বিষেশ নাগরিক সভা নবগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খলিলের আয়োজনে ইফতার মাহফিল  নববধূকে নিয়ে আকাশপথে গ্রামে আগমন, নজর কাড়লেন সুমন দেশবাসীকে বিরোধীদলীয় নেতার ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঝালকাঠিতে যুবদল নেতার উদ্যোগে ১৫শ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

ঝালকাঠি-১: শাহজাহান ওমরের দলবদলে সৃষ্ট শূন্যতায় বিএনপির নতুন ভরসা প্রকৌশলী রেজাউল করিম।

Reporter Name / ১৪৬ Time View
Update : শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫

 

বিশেষ সংবাদদাতা,

দীর্ঘ চার যুগ ধরে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনটি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি। ব্যারিস্টার মোঃ শাহজাহান ওমর বীরউত্তমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি এখান থেকে বারবার বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর অপ্রত্যাশিতভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। এই রাজনৈতিক শূন্যতার ক্রান্তিকালে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আশা ও ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন একাধারে রাজনীতিবিদ, গবেষক, লেখক ও সমাজসেবক প্রকৌশলী এ কে এম রেজাউল করিম।

 

প্রকৌশলী রেজাউল করিম শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে ও বিদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শ তুলে ধরতে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে জনপ্রিয়তা এবং দলের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা তাঁকে রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় বিএনপির একজন অপরিহার্য ও নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

কে এই প্রকৌশলী রেজাউল করিম?

প্রকৌশলী এ কে এম রেজাউল করিম একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। টেলিভিশনের টক-শোতে তিনি একজন সুপরিচিত মুখ, যেখানে তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে বিএনপির পক্ষে বলিষ্ঠ জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার তালিকাও বেশ দীর্ঘ:

সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল

সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক – জিয়া পরিষদ

সাবেক সদস্য – যুক্তরাজ্য বিএনপি ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক – সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, যুক্তরাজ্য শাখা

 

সাবেক সদস্য – ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও সাবেক সহ-সভাপতি – কাউখালী উপজেলা বিএনপি

 

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সান্নিধ্যে থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যা দলীয় হাইকমান্ডে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।

 

মাঠের রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে জনপ্রিয়তা

 

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে থাকলেও, সামাজিক ও জনসেবামূলক কাজে প্রকৌশলী রেজাউল করিম সবচেয়ে এগিয়ে। তিনি ২০০১ সাল থেকেই এ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন, যা অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তাকে তৃণমূলের অনেক কাছাকাছি নিয়ে গেছে।

 

তাঁর প্রতিষ্ঠিত মোসলেম আলী খান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি এলাকার হতদরিদ্র মানুষের জন্য আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করছেন। কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

 

শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান:

 

রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও মানবাধিকার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন:

 

সাতুরিয়া ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজাপুর, ঝালকাঠি

 

আলহাজ্জ্ব কে.এম. আবদুল করিম জামিয়া ইসলামীয়া ইয়াতিমখানা ও বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা, কাউখালী, পিরোজপুর

 

শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক রিসার্চ ইনস্টিটিউট

 

জীবনানন্দ দাশ গবেষণা কেন্দ্র

 

ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি)

 

সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট

 

একজন লেখক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর রচিত ‘জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় চিন্তা’, ‘তারেক রহমানের ৩১ দফা’ সহ একাধিক গবেষণামূলক গ্রন্থ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।

 

আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণ

 

এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আরও কয়েকজন নেতা সক্রিয় থাকলেও, প্রকৌশলী রেজাউল করিম তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ব্যাপক সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। যেখানে অন্য প্রার্থীরা প্রচলিত গণসংযোগে ব্যস্ত, সেখানে তিনি বিএনপির ভাবমূর্তি পুনর্গঠন, জনগণের আস্থা তৈরি এবং ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরছেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের দলত্যাগের পর ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে হলে এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি একাধারে তৃণমূল ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত, কৌশলী এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমৃদ্ধ। এই সকল মানদণ্ডে প্রকৌশলী এ কে এম রেজাউল করিম অন্য প্রার্থীদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিই হতে পারে বিএনপির হারানো আসন পুনরুদ্ধারের প্রধান নিয়ামক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/