স্টাফ রিপোর্টার : উইমেন্স এন্ড ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাহিত্যিক দিল আফরোজ রিমা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও মহান স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে নারীকন্ঠ ও স্টার বাংলাদেশ মিডিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে উইমেন্স এন্ড ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ প্রদান। এ সম্মানা পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা সফল নারী ও পুরুষেরা। উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণ করেন সাহিত্যিক দিল আফরোজ রিমা
১৪ মার্চ শনিবার বিকাল ৪ টায় রাজধানীর বিজয়নগর পল্টন টাওয়ারস্থ ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে নারীকন্ঠ ও স্টার বাংলাদেশ মিডিয়া এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীসহ চলচ্চিত্র তারকা, সঙ্গীত শিল্পী, ফ্যাশন মডেল ও নৃত্যশিল্পীদের উপস্থিতিতে ই-ক্রয় প্রেজেন্ট’স “ উইমেন্স এন্ড ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬” প্রদান, ইফতার মাহফিল ও সুবিধা বঞ্চিতদের ঈদের পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি বিএমএসএস এর চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিচারপতি মোঃ জয়নুল আবেদীন (অ্যাপিলিয়েট ডিভিশন- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট , প্রধান আলোচক ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী মাসুকা নাসরিন রাকা (মিস বাংলাদেশ রানার্স আপ ১৯৯৫।
এছাড়াও বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের এবং নারী নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
পাওয়ার্ড বাই এফআইইএফ, কো-পাওয়ার্ড বাই- আদিত্য, স্পন্সর- উপার্জন মার্ট, মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা, প্রিন্ট মিডিয়া পার্টনার- দৈনিক কালের সমাজ ও দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ।
সাহিত্যিক দিল আফরোজ রিমা বলেন- মা বাবা ভাই বোন, চাচা ফুফু দাদা দাদি -সবাইকে নিয়ে গ্রামের এক ছায়া সুনিবির বাড়ির ফুল ফলের গাছে ভরা স্নীগ্ধ পরিবেশে ছিল আমার বাস। বাড়িটি ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এবং সাহিত্য পাঠের এক বিশাল পাঠশালা। বাড়ির সবাই সাহিত্য পাঠে অভ্যস্ত ছিলেন। সবসময় সবাই প্রত্যাহিক কাজের পাশে সাহিত্য পাঠ করতেন।
আমার আম্মা সাহিত্য পাঠের একজন বিশেষ অনুরাগী। মায়ের ইচ্ছে থেকেই আমার সাহিত্য পাঠ। সাহিত্য পাঠ থেকেই সাহিত্যে অনুরাগ। তারপর থেকে সাহিত্য চর্চা। কবিতা দিয়ে আমার লিখার শুরু।
১৯৯০ সালে আমার প্রথম কবিতা (শীতের শেষে) প্রকাশ পায় একটি সাপ্তাহিক প্রত্রিকা”সবুজ পাতায়’। এ যাবত ১২টি প্রত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশ হয়েছে। এখনো কিছু প্রত্রিকায় লেখা অব্যাহত আছে।
আমি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং কিশোর সাহিত্য লিখি। ২০১১ সালে আমার গল্পের বই ”কাজল গাঁয়ের মেয়ে ” প্রকাশ হয়। সমাজে নারী নির্যাতনের বিষয় গুলো ফুটে উঠেছে আমার এই গল্পের বইটিতে।
২০১৭ সালে প্রকাশ হয় কবিতার বই ”শেফালি ফুল”। প্রকৃতি প্রেম, ধর্মীয় অনুভূতি এবং ভালবাসা পূর্ণ হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি আমার এই কবিতার বই। ২০২১ সালে প্রকাশ হয় উপন্যাস ”সুরক্ষিত প্রজন্ম ”। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ফারজানা তার জীবনের সবটুকু চেষ্টা দিয়ে পরিবার সমাজকে সংশোধন করার চেষ্টা করেছে। তার মেয়েকে জন্মের পর থেকে, কিভাবে ধাপে ধাপে একজন আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছে পারিবারিক ঘটনার মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটেছে। ফারজানা তার ড্রাগে আসক্ত নষ্ট হয়ে যাওয়া দেবরকে কিভাবে সঠিক পথে এনে তাকে একজন আদর্শ নাগরিকে পরিনত করে, নিজের স্বামী ভুল করে অন্য মেয়েতে আসক্ত হয়, সে কিভাবে তার স্বামীকে ফিরিয়ে আনে ইত্যাদি নানামুখী ঘটনার বাস্তব শিক্ষার সমন্বয়ের এই উপন্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক উপন্যাস। যা পড়ে পাঠক বিভিন্ন মুখি উপকার পাবেন।
আমি পঞ্চাশ উর্ধ এক নারী। একজন ক্যান্সার সারভাইভার। আমি প্রতিদিন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করি। প্রতিদিন প্রতিটি সকালে আমি জেগে উঠি নতুন করে। স্বপ্ন দেখি বাস্তবায়নের প্রত্যাশায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি লিখে যাব, মৃত্যুর দিনেও আমার বাগানে ফুল ফুটবে , আমি গাছের পরিচর্যা করব, মৃত্যুর আগে শেষ ওয়াক্ত নামাজও আমি সজ্ঞানে পড়ে যাব এই আমার প্রত্যাশা।
তিনি আরো বলেন- বর্তমানে আমার সাংসারিক প্রাত্যহিক কাজের পাশে আমার ইবাদত, আমার লেখা, আমার গাছের পরিচর্যা এবং জ্ঞান অর্জনের প্রায়াস নিয়ে বেঁচে থাকি। একথা ঠিক অসুস্থতার কারণে আমি দু যুগ পিছিয়ে আছি।
আমার আম্মা আমার আদর্শ শিক্ষক। আমার আব্বা ছিলেন আমার আদর ভরা আশ্রয়। আজ তিনি নেই। আমার স্বামী আমার আশ্রয়, আমার দু,মেয়ে আমার ভরসা, আমার (মেয়ের জামাই) ছেলে আমার মোটিভেশান। পর্দার আড়ালেও আছে কিছু মানুষ তাদের নিঃস্বার্থ চাওয়া আমাকে এগিয়ে নিয়ে যায় নতুন দিগন্তে।
তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।
https://slotbet.online/