• বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ইউনিয়নেই চিকিৎসা পৌঁছাবে, হাসপাতালে চাপ কমানোর পরিকল্পনা সরকারের –ড. জিয়া হায়দার রাজাপুরে জুলাই যোদ্ধার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন দুস্থ মানুষের পাশে ঢাকাস্থ নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন: শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নই কি মূল চাবিকাঠি: রেজাউল করিম ঝালকাঠিতে পরিবেশ রক্ষায় বিষেশ নাগরিক সভা নবগ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খলিলের আয়োজনে ইফতার মাহফিল  নববধূকে নিয়ে আকাশপথে গ্রামে আগমন, নজর কাড়লেন সুমন দেশবাসীকে বিরোধীদলীয় নেতার ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ঝালকাঠিতে যুবদল নেতার উদ্যোগে ১৫শ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দূর্নীতি সমাচার :  তবিবুর গিলে খেয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রকল্প, পুরস্কার পেয়েছে আরো একটি প্রকল্প 

Reporter Name / ১৫৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫

 

# মা- বাবা তাকে ডাকতেন শুক্কুর

# এলাকায় ও দপ্তরে কানাঘুষা আছে বিয়ে পাগলা তবিবুর নামে

 

# উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজের সাথে গভীর সম্পর্ক

 

# আওয়ামী লীগের দোসর ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সক্রিয় নেতা

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ডি পি এইচ ই’র বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প “মানবসম্পদ উন্নয়নে,গ্রামীন পানি সরবরাহ স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্য বিধি প্রকল্প”। প্রকল্পটি গিলে খেয়েছে প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান,উপহার স্বরুপ দায়িত্ব পেয়েছেন আরো একটি প্রকল্পের। ছেলেবেলায় দরিদ্র মা- বাবা ও এলাকাবাসী ডাকত শুক্কুর নামে। বিয়েতে খুব পারদর্শী তাই নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জ ও কর্ম এলাকায় সকলে তাকে জানে বিয়ে পাগলা তবিবুর নামে। এলজিআরডি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিশেষ সহকারী মাহফুজকে কিনেছেন ঘুষের টাকায়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ডি পি এইচ ই ,দেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা দেখভাল ও উন্নয়নের দায়িত্ব এই দপ্তরের। গভীর নলকূপ, অগভীর নলকূপ, সাবমার্জিবল পাম্প, পানি শোধনাগার,ওভারহেড টাঙ্কি, বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে সারা বছর ব্যবহার, পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ। শুধু তাই নয় কৃষি জমিতে পানি সেচের জন্য অগভীর নলকূপ ও ড্রেন নির্মাণ কাজও করে এই সংস্থা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তাদের কাজগুলো সুন্দর ভাবে পরিচালনার জন্য অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে এবং কাজগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে প্রত্যেকটি প্রকল্পে রয়েছে একজন প্রকল্প পরিচালক। এমন একজন প্রকল্প পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান তালুকদার। আলোচিত ও সমালোচিত তবিবুর রহমানের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হল।

 

ডি পি এইচ ই পরিচালিত একটি বৃহৎ প্রকল্প “মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীন পানি সরবরাহ স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্য বিধি প্রকল্প”। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি শুরু হয় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আর শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। এই প্রকল্পের পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান তালুকদার। জন্ম হয় চাল চুলোহীন এক দরিদ্র পরিবারে। অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ঢাকার অভিজাত এলাকায় বাড়ি , ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি,এলাকায় একরের পর একর জমি। শিশু,কিশোর শৈশব ও ছাত্রজীবনে নামের শেষে তালুকদার খুব বেমানান থাকলেও এখন সেটি মানানসই। তবিবুর রহমান সিরাজগঞ্জের এক অতি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অত্যন্ত মেধাবী তবিবুরের লেখা পড়ায় এলাকার জনসাধারণ সহায়তা করতেন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টফুল বৃত্তি এবং এস এস সি ও এইচএসসিতেও ঈর্ষণীয় ফলাফলের কারনে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায়ও ভাল ফল করে পুরোকৌশল বিভাগ ( সিভিল) ভর্তিহন এবং প্রতিটি সেমিষ্টারে বৃত্তি পেয়েছেন। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার সাথে সাথেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরি পান। সেখান থেকে তাকে আর পিছনে তাকিতে হয়নি। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই তবিবুর ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং কামাতে থাকেন কাড়ি কাড়ি টাকা। পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পোস্টিংএ ছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ঘুষের টাকায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের নিকটে বাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং সিরাজগঞ্জের নিজ এলাকায় কিনেছেন কমপক্ষে দশ একর জমি। তবিবুর রহমান ২০২০ সালের শেষ দিকে ঢাকায় আসেন এবং একনেকে পিল হওয়া নতুন এই প্রকল্পের পিডি হন। সূত্র জানায় সেই সময় এলজিআরডি মন্ত্রী ছিলেন তাজুল ইসলাম। তবিবুর মন্ত্রীর এপিএস জাহিদ চৌধুরীর সাথে ভাব জমান। ডি পি এইচ ই সূত্রে জানা যায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পেতে জাহিদ চৌধুরীর মাধ্যমে মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে দশ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প মনিটরিং কমিটির তথ্যানুযায়ী প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৪৬%, প্রকল্প শেষ হতে সযময় আছে আর মাত্র দেড় মাস এবং কাজ বাকি‌ ৫৪ শতাংশ। কমিটির মূল্যায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের আট বিভাগের ৩০ জেলার ৯৮টি উপজেলায় এই প্রকল্পের কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে জানা যায় ৮০ ভাগ টয়লেট ব্যবহার উপযোগী নয়। কমিউনিটি ক্লিনিকের বেশিরভাগ টয়লেট ক্লিনিক থেকে দুরে থাকায় সেগুলো কোনো কাজে আসছে না। পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের কাজে যে পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে তা অতি নিম্নমানের। যার বেশিরভাগই অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সূত্র জানায় টেন্ডার মেনিপুলেশন, ঠিকাদারের সাথে ১০-২০% চুক্তিতে কার্যাদেশ, নিম্নমানের কাজে ঘুষ নিয়ে বিল প্রদান, প্রকল্পের কেনাকাটায় ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ, কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ। সূত্র আরো জানায় এই প্রকল্পে নানান ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান কামিয়েছেন প্রায় দুই তশ কোটি টাকা। সূত্র জানায় প্রকল্পের শেষ দিকে এই দুর্নীতির মাত্রা আরো বেড়ে যাবে।

মোঃ তবিবুর রহমানের বিয়ে নিয়ে রয়েছে অনেক গল্প। তার নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জ ও অফিস ডিসিএইচইতে বিয়ে পাগলা তবিবুরকে নিয়ে অনেক কথার প্রচলন রয়েছে। জানা যায় তবিবুর যেখানে বদলি হয়ে যেতেন সেখানেই বিয়ে করেছেন। তবে তার বিয়ের চিন্তায় বেশ মজাদার,তার পছন্দ অফিসের সুন্দরী অথচ গরীব কর্মচারী অথবা সেই এলাকার বাসিন্দা। বিয়ে করে তাকে রানীর হালে রাখা ও তার বাবা-মা ,ভাই-বোনদের নানান ভাবে সহায়তা করে সাবলম্বী করে দেয়া। এদিকে বদলির সময় হলে স্ত্রীর নামে জমি কিনে বাড়ি করে দেয়া অথবা সে চাইলে মোটা অংকের ব্যাংক ব্যালেন্স দিয়ে আপসে তালাক নেয়া। সূত্র জানায় এভাবে বগুড়া,পাবনাসহ যে সব এলাকায় পোস্টিং ছিলেন প্রায় সব খানে একটি করে বিয়ে করেছেন। এপর্যন্ত তবিবুরের চারটি বিয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং প্রত্যেক স্ত্রীকে বেশ সাবলম্বী করে দিয়েছেন। সূত্র আরো জানায় তবিবুরের দু’জন স্ত্রী আছে এবং তারা ঢাকার পৃথক পৃথক ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।(চলবে)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/