মূলবক্তব্য :
৭১ সালের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ,কেমন যেন একটি ভাঙ্গাচোরা ঝুড়ি, যার অধিকাংশ জায়গায় ছিদ্র, কিন্তু এই ভাঙ্গাচুরা ও ছিদ্রযুক্ত ঝুড়ির তলা ছিল। প্রবল স্বজনপ্রিয় ও দলকানা স্বভাবের শেখ মুজিবের শাসন শেষে দেখা গেল বাংলাদেশ পুরোপুরি একটি বটমলেস বাস্কেট বা তলাবিহীন ঝুড়ি ! তলা বিন ঝুড়ি আমার নিজস্ব কোন বক্তব্য নয়,এটি বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
নিজের কোন দল ছিল না, কিন্তু শূন্য হাতে এবং মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার বিসমিল্লাহ করলেন স্বাধীনতার ডাক দেয়া বীর উত্তম জিয়া।
তার সফলতার প্রধান কারণ ছিল তিনি এ ভূখণ্ডের মেজরিটি মানুষের ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে সম্মান দেখিয়েছিলেন,জিয়ার সফলতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তিনি সংখ্যালঘুর সম্প্রদায় ও ধর্মের নিরাপত্তা বিধান করতে পেরেছিলেন।
যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া ছোট্ট একটি দেশের নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার শামিল, যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল অস্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশের প্রথম যাত্রা, যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অখন্ডতার সবচেয়ে বড় বাধা সেই বাঙালি জাতীয়তাবাদকে তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করলেন।
প্রধান ও সর্বোচ্চ নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বাঙ্গালীদের সাথে অর্ধশত উপজাতি এই প্রথম উপলব্ধি করতে পারল তারাও এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভূখণ্ডটির মালিক। প্রধান নৃতাত্ত্বিক বাঙ্গালীদের সাথে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীগুলোও তলা বিহীন ঝুড়ি নামক দেশটির তলা বন্ধ করতে রাতারাতি সমান তালে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো। বছরখানেক আগেও অর্ধশত উপজাতি গোষ্ঠী বাঙালি জাতীয়তাবাদে সন্তুষ্ট হতে না পেরে দেশ গঠনে সর্বোচ্চ আত্মনিয়োগ করতে পেরেছিল না, এক বছরে ব্যবধানে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কল্যাণে তারা যেন দেশের মালিকানায় অংশী হয়ে গেল।
মুজিবের দুর্ভিক্ষ পীড়িত দেশে সেচের আওতায় ছিল ৩২ লাখ একর জমি,খালের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হতো ২ লাখ ৯৩ হাজার একর জমি।
বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবের সূতিকাগার হিসাবে খ্যাত খাল কাটা কর্মসূচি আওতায় বছরের মধ্যেই খনন করা হলো দেড় হাজার খাল,যা দৈর্ঘ্যে ছিল ২৬ হাজার কিলোমিটার !
১৯৮১ থেকে ৮২ সালে দেশে মোট সেচের আওতায় আসা জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩৭ একর। ওই সময় খাল থেকে সেচ দেওয়া জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩ হাজার ৫১৫ একর।
এত পরিমান চাল উৎপাদন হলো যে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ নেপালের চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হল।
বীর উত্তম জিয়া তার কৃষি বিপ্লব দিয়ে তলা বিহীন ঝুড়ি নামক দেশটির তলা বন্ধ করে দিলেন।
যার ডাকে দেশবাসী পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই দেশবাসী জিয়ার সকল কর্মকান্ডে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন,দেশবাসীর এই সমর্থন বীর উত্তম জিয়াকে স্টেটসম্যান জিয়ায় পরিণত করেছিল।
বাংলাদেশের সমূদ্র সীমানায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি জেগে উঠলে আধিপত্যবাদী ভারত সেখানে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল।
আধিপত্যবাদী ভারতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় স্টেটসম্যান জিয়া দক্ষিন তালপট্টি দ্বীপে সশস্ত্র বাহিনী পাঠান। অতঃপর আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রটি সৈন্য প্রত্যহার করতে বাধ্য হয়।
লেখক পরিচিতি:
রাসেল বিল্লাহ,
শিক্ষক ও কলামিস্ট।
https://slotbet.online/