বিশেষ প্রতিনিধি:
ঘুষের টাকায় গড়েছেন সম্পদের পাহাড়
সুইডেন আসলাম বেঁচে থাকলে সাংবাদিকে রাস্তায় জবাই করত
* পিডি ও তার পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করে প্রকল্পের ৪ টি গাড়ি
* PMU পদে ৮-১০ লাখ হারে ঘুষ
*CMSU পদে ৭-১০ হারে ঘুষ
* মধুমতির মডেল টাউনে পৌনেএক বিঘা জমি
* সাভারের বনগাঁ ইউনিয়নের বনগাঁ মৌজার গান্ধারিয়ায় ১০ বিঘা জমি।
* আমেরিকার পেনসিলভানিয়ায় কিনেছেন বাড়ি ও জমি
*১/১১,দিনাজপুরে দুই কোটি টাকার জমি ক্রয়
*একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের সাথে ছিল দহরম মহরম সম্পর্ক
দুর্নীতির বরপুত্র মঞ্জুর আলী শীরনামের সংবাদের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর এলজিইডি ভবনে সাড়া জাগিয়েছে। সকলের মুখে মুখে দ্বিতীয় পর্ব কখন প্রকাশিত হবে। পাঠকদের বিপুল আগ্রহের কারনে দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হল।
ঘুষের টাকায় মোঃ মঞ্জুর আলী গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। পরিচিত জনদের সাথে দুঃখ করে বলেছেন সুইডেন আসলাম বেঁচে থাকলে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করা সাংবাদিকদের রাস্তায় জবাই করত। RUTDP প্রকল্পের জনবল নিয়োগে ১২ কোটি টাকা ঘুষ, কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগে ঘুষ নিয়েছেন ৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ইন্ডিভিজুয়াল কনসালটেন্ট PMU’র পাঁচটি পদে নিয়োগ দিয়ে ৮-১০ লাখ টাকা হারে ও CMSU পদে দশ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৭-১০ টাকা হারে ঘুষ নিয়েছেন। অন্যান্য পদেও ঘুষ নিয়েছেন ২-৫ লাখ টাকা হারে। সূত্র জানায় PMU ও CMSU পদের ১৫ জনের নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন গতকাল ৮ অক্টোবর
সূত্র জানায় RUTDP’র প্রকল্প পরিচালক মোঃ মঞ্জুর আলী প্রকল্প শুরু হতেই শত কোটি টাকা অবৈধ আয় করেছেন জনবল নিয়োগ,কেনাকাটা ও নয়ছয় বিল ভাউচার করে।সেচ্ছাচারিতা এখানে শেষ নয় জানায় পিডি মঞ্জুর আলী প্রকল্পের চারটি দামি গাড়ি নিজে ও পরিবারে সদস্যরা ব্যবহার করেন। ফেসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী পলাতক তাজুল ইসলাম যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন সেই গাড়িটি RUTDP’র প্রকল্প পরিচালক মোঃ মঞ্জুর আলী ব্যবহার করছেন।যার নাম্বার ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-১৮৯২। তার স্ত্রী ওই প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী যে গাড়িটি ব্যবহার করেন সেটি পাজেরো স্পোর্টস কার যার নাম্বার ঢাকা মেট্রো ঘ ১৫-১০৮৪ , সূত্র জানায় সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এতো দামি মডেলের গাড়ি ব্যবহার করতে পারেননা। তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সার্বক্ষণিক ব্যবহার করেন একটি দামি গাড়ি যার নাম্বার ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-৬১১০ , আর একটি গাড়ি সার্বক্ষণিক ব্যবহার করেন পিডির শ্যালিকা। সূত্র জানায় তার শ্যালিকা বুয়েট কোয়ার্টারে থাকেন। সূত্র আরো জানায় চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা মঞ্জুর আলীর ছেলে আমেরিকার অঙ্গরাজ্য পেনসিল ভাটিয়ার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে বি এস সি ইন ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়া লেখা করছে। সূত্র জানায় বাবার অবৈধ টাকার গরমে সে ৪/৫ মাস পর পর গাড়ির মডেল পরিবর্তন করে। সূত্র আরো জানায় মেয়ের কলেজ শেষ হলেই সেও পাড়ি জমাবেআমেরিকায়,সকল প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করে রেখেছেন।
সংবাদের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর পিডি মঞ্জুর আলী তার অফিস কক্ষে নিকটতম কয়েক জনের সাথে আলাপকালে দুঃখ করে বলেন,এই সময় যদি সুইডেন আসলাম বেঁচে থাকত তাহলে আমি বললে এই সব সাংবাদিকদের রাস্তায় জবাই করে মেরে ফেলত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরো বলেন, মঞ্জুর আলী আরো বলেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম তাকে মিয়া ভাই বলে সম্বোধন করত। সুইডেন আসলামের দুর্দিনে মঞ্জুর আলী তাকে অনেক সহায়তা করতেন বলে দম্ভ করে বলেন।
মঞ্জুর আলীর সম্পদের কিয়দাংশ: ঢাকার গাবতলীর সন্নিকটে মধুমতি মডেল টাউনে পনের কাঠা জমি।এর মধ্যে ৫ কাঠা তার ছোট ভাই রাজু আহমেদের। ঢাকার কলেজ গেটের সন্নিকটে মাঠের পাশে তিনটি ফ্ল্যাট, আমিন বাজারের বলিয়া পুর পেরিয়ে কন্ডা – গান্ধারিয়া সড়কের বনগাঁ ইউনিয়নের গান্ধারিয়া নদীর পাড়ে দশ বিঘা জমি এর পাশে গান্ধারিয়া রিভার সিটি। আমেরিকার পেনসিলভানিয়ায় একটি বাড়ি ও জমি যেখানে তার ছেলে থাকে। নিজ জেলা দিনাজপুরে ও বিরলে কিনেছেন কমপক্ষে দশ একর জমি।
সূত্র জানায় ১/১১ এর সময় সেনাবাহিনী ব্যপক তল্লাশি শুরু করলে তার কাছে থাকা দুই কোটি টাকা নিয়ে তার বাবার কাছে রেখে আসেন তখন তার বাবা ওই টাকা দিয়ে দশ একর জমি কেনেন। সম্প্রতি এই প্রতিবেদক মধুমতি মডেল টাউন ও সাভারের গান্ধারিয়ায় মঞ্জুর আলীর সম্পদের অনুসন্ধানে গেলে তার জমিতে কর্মরত জনৈক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার বাবা ইন্জিনিয়ার সাহেবকে এই জমি কিনে দেন এখানে আমাদের ও আমাদের জ্ঞাতিগুস্টির জমি ছিল।তিনি আরো বলেন ইন্জিনিয়ার মঞ্জুর স্যার তার বন্ধু আরেক জন ইন্জিনিয়ার ও তার ভাই একসাথে এই জমি কেনেন।পরে স্যারের বন্ধু ও ভাই তাদের জমি স্যারের নিকট বিক্রি করেন। ওই জমিতে তারা এক অংশে,লাউ ,এক অংশে ধুন্দুল,বড় একটি অংশে বেগুনের চারা রোপন করেছে এবং এর ভিতর পালন শাক ও লাল শাকের চাষ করেছে বাকি জমি সবজি চাসের প্রক্রিয়া চলমান।ইন্জিনিয়ার সাহেব আসে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন হ্যাঁ তিনি মাসে কমপক্ষে এক বার আসেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আসেন,সবজি মাছ নিয়ে যান।
সূত্র জানায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত RUTDP’র নিজস্ব প্রতিনিধি টি টি এল কোভেনার মাধ্যমে মঞ্জুর আলী আমেরিকায় টাকা পাচার করেন। তার মাধ্যমে পেনসিলভানিয়ায় বাড়ি ও জায়গা কিনেছেন। সূত্র আরো জানিয়েছে পিডি মঞ্জুর আলী তার জায়গায় সহজে যাতায়াতের জন্য এলজিইডির দ্বিতীয় শহর প্রকল্পের মাধ্যমে বলিয়াপুর কন্ডা গান্ধারিয়া সড়কটির উন্নয়ন ও গান্ধারিয়া নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ করিয়েছেন। রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। সূত্র জানায় ওই এলাকায় এই সড়কের থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আছে কিন্তু শুধুমাত্র মঞ্জুর আলীর প্রেসারে দ্বিতীয় শহর প্রকল্পের পিডি এই রাস্তাটি উন্নয়ন করতে বাধ্য হয়েছেন।
https://slotbet.online/