নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল ও জীবন নাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
সোমবার (১৫শে সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য, মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মৃত ফালু মিয়ার ছেলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাইনুদ্দিন, কাচারিপাড়া এলাকার সবদর আলীর ছেলে নিজামুদ্দিন, মহিনন্দ চরপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান, করিমগঞ্জ উপজেলার সতেরদরিয়া এলাকার জহির মিয়ার ছেলে জুয়েল, মৃত আব্দুল মন্নাসের ছেলে আলামিন, মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে বাচ্চু মিয়া, সদর উপজেলার চৌধুরীহাটি এলাকার মৃত সুলতান মিয়ার ছেলে মঞ্জিল এর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ অনুযায়ী একটি একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরনে উল্লেখ করেন, আসামিগণ একদলভুক্ত, পরধনলোভী ও ভূমিদস্যু লোক বটে। মোকদ্দমায় আনিত অভিযোগ বাদিনীর পৈতৃক সম্পত্তি। তারা অসহায় ও বিধবা নারী বটে। ভূমিদস্যু লোকেরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও জাল দলিল দেখাইয়া দখল করে নিতে চায়।
ইতিমধ্যে তারা আমাদের পৈত্রিক জমিতে মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দাপটে, ক্ষমতা বলে ও সহযোগিতায় মামলায় বর্ণিত সকল আসামিগণ মাইনুদ্দিনের উপস্থিতিতে জোরপূর্বক ভাবে ভূমি দখল করে নিয়েছে।
মামলা তথ্য সূত্রে আরও জানা যায়, বাদিনীর বোন হাজেরা নিকট হইতে আসামি নিজামুদ্দিন হেবা দলিল করে ১৩ শতাংশ ভূমি জাল দলিল করে লিখে নিয়ে যায়। নিজামুদ্দিনের স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানতে পারিয়া উক্ত দলিল বাতিলের জন্য কিশোরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণা করে হেবা দলিল করে নেওয়ার কারণে দলিল বাতিলের মামলা দায়ের করেন।
উক্ত বিষয়ে জানিয়াও আসামি নিজামুদ্দিন আসামি মিজানের নিকট সম্পত্তি হস্তান্তর করে, আসামি মিজান জুয়েলের নিকট হস্তান্তর করে। আসামি জুয়েল উক্ত বিষয় জানিয়াও জোরপূর্বক ভুয়া ও জাল দলিল দেখাইয়া আসামী মাইনুদ্দিনের সহযোগিতায় ভূমিতে জোরপূর্বক দখল করে ঘর উঠিয়েছে। আসামি আল আমিন আমাদের দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে রেখে দিয়েছে। আসামি মাইনুদ্দিন, জুয়েল, মিজান, আলামিন, মঞ্জিল, নিজামুদ্দিন এর কথামতো আসামি বাচ্চু মিয়া ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়া হয়রানি করিতেছে।
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলার ঘটনার দিন ও অসময়ে সকল আসামিগণ, আসামি মাইনুদ্দীনের সহযোগিতায় এবং তার হুকুমে ভুক্তভোগীদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করিয়া ভূমি দখল এবং ঘর উঠানোর কাজ করিতে থাকিলে তখন বাদিনী পক্ষের লোকজন বাধা নিষেধ দিলে সকল আসামীগন উত্তেজিত ও ক্ষিপ্ত হইয়া তাদের হাতে থাকা মারাত্মক অস্ত্রাদি রামদ, কুড়াল, শাবল হকিস্টিক দিয়ে বেদম বাইড়াইয়া মারাত্মক নীলা ফোলা জখম করে। আসামি মাইনুদ্দিন হুকুমে সকল আসামিগণ বাদী ও সাক্ষীগণকে তাদের হাতে থাকা বাশের লাঠি ও হকিস্টিক দ্বারা বাইরায়া পানিতে ফেলে দেয়। উক্ত ঘটনা আশেপাশের লোকজন দেখে। বাদিনী ও তার লোকজন তাদের করা মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে আসিলে এই সুযোগে আসামি মাইনুদ্দীনের সহযোগিতায় সকল আসামিগণ জোরপূর্বক ঘর উঠাইয়া জায়গা দখল করে নিয়ে যায়। এমনকি আমাদের দোকান ঘর ভাঙ্গিয়াও নিয়া যায়।
এছাড়াও কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার ও কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করিলেও কোন সুরাহা পায় নাই। আসামি মাইন উদ্দিন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ক্ষমতাবলে উক্ত ঘটনা ঘটিয়েছে। আসামি মাইনুদ্দিন মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে না পারায় আসামি মাইনুদ্দিন অপরপক্ষের নিকট থেকে ৫/৬ লক্ষ টাকা নিয়ে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও জোরপূর্বক ভাবে ঘর উঠিয়েছে, ও দোকানপাট ভাংচুর করিয়া, ঘর ভাঙ্গিয়ে নিয়ে যায়।
থানায় অভিযোগ দায়ের করিলে দায়িত্ব পায় দুলাল দারগা, ভুক্তভোগী জানায় দুলাল দারগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাইনুদ্দিন ছাড়া সে এখানে কিছু করতে পারবে না। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তাদের পরিবারের কোনো পুরুষ লোক না থাকায় নীলগঞ্জ মিলনগঞ্জ বাজারে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ভূমিদস্যুরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
https://slotbet.online/