নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়েছেন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট সমর্থিত মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। একই প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন ঢাবি শিবির শাখার সভাপতি এসএম ফরহাদ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সিনেট ভবনে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে স্থাপিত ৮১০টি বুথে।
দীর্ঘ ছয় বছর পর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোটকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকে এই নির্বাচনকে ‘মিনি পার্লামেন্ট’ খ্যাত ডাকসুর পুনর্জাগরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি এবং অংশগ্রহণে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো ছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ছিলেন ১৮ হাজার ৯০২ জন। এবার ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি বড় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৮টি পদে। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ৬২ জন। ভিপি পদে লড়েছেন ৪৫ জন, জিএস পদে ১৯ জন এবং এজিএস পদে ২৫ জন প্রার্থী। নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণও এবার নজর কাড়ে—ভিপি পদে ছিলেন ৫ জন, জিএস পদে একজন এবং এজিএস পদে ৪ জন নারী প্রার্থী।
ফল ঘোষণার পর বিজয়ীরা শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভিপি নির্বাচিত সাদিক কায়েম বলেন, “এই বিজয় আসলে আমার একার নয়, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এবং ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।” সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত এসএম ফরহাদ জানান, “ডাকসু হলো শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম। এই মঞ্চকে আমরা ছাত্রসমাজের প্রকৃত কণ্ঠস্বর করে তুলতে কাজ করবো।” সহ-সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খানও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শিক্ষার্থীরাও নতুন নেতৃত্বের প্রতি তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আবাসন সংকট, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিবহন সমস্যা এবং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য এবং আগ্রহ প্রমাণ করে, তারা ডাকসুকে শুধু একটি সংসদ নয়, বরং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন।
শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকসু নির্বাচন কেবল একটি সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির মূল ভিত্তি। ছয় বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে নির্বাচনের আয়োজন হওয়ায় নতুন নেতৃত্বে ক্যাম্পাস আবারো প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নতুন ভিপি, জিএস এবং এজিএস নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া ও সমস্যা সমাধানে ডাকসু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও মনে করছেন তারা।
https://slotbet.online/