মাসুম খান,ঝালকাঠি প্রতিনিধি | ১৫ জুলাই ২০২৬
আসন্ন ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১ নম্বর গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক তিনবারের ইউনিয়ন সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার খন্দকার হুমায়ূন কবিরের নামও স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় উঠে এসেছে।
দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতির কারণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে খন্দকার হুমায়ূন কবিরকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দলীয় মনোনয়ন বা চূড়ান্ত প্রার্থিতা বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপির স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৮ সালে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে খন্দকার হুমায়ূন কবিরের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তিন দফা গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘদিন ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের ভাষ্য, তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পরিচালনা, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। তবে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন মুখও সামনে আসতে পারে বলে তারা মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা, নির্বাচনী কৌশল এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বর্তমান আলোচনা নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নির্দেশ করে না।
সম্ভাব্য প্রার্থিতা প্রসঙ্গে খন্দকার হুমায়ূন কবির বলেন, “১৯৭৮ সাল থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ১৯ দফা কর্মসূচিকে ধারণ করে আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি। ২০০৩ সালে দলীয় সমর্থনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি। এছাড়া ২০১১ ও ২০১৬ সালেও দল আমাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। দল যদি এবারও আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেন, তাহলে গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সুশাসিত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে আমার অন্যতম অগ্রাধিকার।”
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা থাকলেও ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও প্রচারণার ওপর।
নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দসহ সব কার্যক্রম প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। ফলে বর্তমানে যাঁদের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে, তাঁদের কারও প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
https://slotbet.online/