নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের কিশোর উদ্ভাবক আহনাফ বিন আশরাফ নাবিল ও তার দল Young Sparks of Bangladesh X ScriptySphere আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত WYSII – World Youth STEM Invention & Innovation International 2026 প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা অর্জন করেছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
>WYSII 2026-এ নাবিলের দলের সর্বশেষ অর্জন
WYSII 2026 প্রতিযোগিতায় Engineering & Technology ক্যাটাগরিতে নাবিলের নেতৃত্বাধীন টিম অর্জন করেছে—
– International Silver Medal
– Best Poster Presentation Award
– Panel’s Choice Award
এই প্রতিযোগিতায় নাবিল Team Lead, Project Lead ও Research Lead হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং উক্ত ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী টিমের নেতৃত্ব দেন।
Bangladesh Young Scientists & Innovators Society (BYSIS) এর Guidence এ তারা থাইল্যান্ডে যায় ও এতো ভালো করেন।
>WYSII-এর আগেও নাবিলের উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক অর্জনসমূহ
এর আগেও নাবিল একের পর এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে অর্জন করেছেন—
– International Gold Medal
– International Silver Medal (একাধিকবার)
– NASA Space Apps Challenge – Special Prize
– NASA Conrad Challenge – Top 60 (বিশ্বের ৩,০০০+ টিমের মধ্যে)
– International Children’s Peace Prize 2025 – Top 200 Nominee
– বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন, STEM ও রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় পুরস্কার ও স্বীকৃতি
– জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিলিয়ে ৩৫০+ অর্জন
– নাসা-সংক্রান্ত একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে, নাবিলের অর্জন কোনো একক ঘটনা নয়—বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, গবেষণা ও নিষ্ঠার ফল।
>টিমের অন্যান্য সদস্য
নাবিলের নেতৃত্বাধীন টিমের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন—
এম. আদিয়াত ইয়ামিম রায়ান — Mechanical & Safety Lead
ফজলে রাব্বি — Documentation Lead
নাবিলের নেতৃত্বে এই টিম সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছে।
>নাবিলের বক্তব্য
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন নাবিল। তিনি বলেন—
“এই কাজগুলো সহজ নয়। গবেষণা করা, নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করা কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গেলে অনেক সময় ও পরিশ্রমের পাশাপাশি বড় অঙ্কের খরচের প্রয়োজন হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, সব সময় প্রয়োজনীয় ফান্ডিং পাওয়া যায় না, এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত সহযোগিতা বা সমর্থনও মেলে না।”
তিনি আরও বলেন—
“যদি পর্যাপ্ত সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিশেষ করে সরকারি সহায়তা পাওয়া যেত, তাহলে হয়তো আমরা আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারতাম এবং আরও বেশি বার বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হতাম।”
নাবিলের মতে, বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনার কোনো ঘাটতি নেই—প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, সহযোগিতা এবং বিশ্বাস।
“সমর্থন পেলে বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবকরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।”
>মায়ের বক্তব্য<
নাবিলের এই আন্তর্জাতিক সাফল্য নিয়ে তার মা বলেন—
“নাবিলের প্রতিটি অর্জনের পেছনে আছে কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস। ছোটবেলা থেকেই ও দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উঠলে একজন মা হিসেবে আমি গর্বিত হই।”
তিনি আরও বলেন—
“সাফল্যের পাশাপাশি দায়িত্ববোধটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নাবিল যেন সবসময় দেশ, মানুষ আর মানবতার কথা মনে রেখে এগিয়ে যায়—এই দোয়া করি।”

>পেছনের সংগ্রামের গল্প
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে ফান্ডিং ও স্পনসরশিপের অভাবে একপর্যায়ে টিমের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সে সময় নাবিলের মা–বাবা এগিয়ে আসেন। Young Sparks of Bangladesh, পরিবার এবং সীমিত কিছু ব্যক্তিগত সহায়তায় তারা প্রজেক্ট ডেভেলপ করে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে দুঃখজনকভাবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে টিমের একজন সদস্য সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি; যদিও তিনি অনলাইনে টিমকে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছেন। তবুও এই সীমাবদ্ধতার মাঝেই টিম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।
>শেষ মুহূর্তের সংকট ও নাবিলের ভেতরের লড়াই-
WYSII 2026–এ অংশ নেওয়ার ঠিক আগের দিনগুলো ছিল নাবিলের জীবনের অন্যতম কঠিন সময়।
প্রজেক্টের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্টস কেনার জন্য অর্থের অভাব ছিল, প্রয়োজনীয় ফান্ডিং তখনো জোগাড় হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নাবিল তার প্রজেক্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সেই রাতে নাবিল নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন—
“আসলে কি আমি ওখানে গিয়ে ভালোভাবে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবো?”
এই প্রশ্ন, এই দ্বিধা, এই মানসিক চাপ নিয়েই নাবিল দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে—আর সেখান থেকেই এনে দেন বাংলাদেশের জন্য একাধিক সম্মান।
নাবিলের আশা—দেশের মানুষ ও সরকার ভবিষ্যতে তার এবং তার মতো তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে দাঁড়াবে, যাতে তারা আরও বেশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকাকে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে পারে।
https://slotbet.online/